• ফাঁকা ওএমআরে উত্তর পূরণ করে দিত অয়নের সংস্থা, চার্জশিটে দাবি সিবিআইয়ের
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে ওএমআরের মূল‍্যায়ন-সহ একাধিক কাজের বরাত পেয়েছিল অয়নের সংস্থা এবিএস ইনফোজোন। তবে পরীক্ষার পর ওএমআর শিটগুলি অভিযুক্ত সংস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি মূল‍্যায়নের পর পুরসভাগুলিতে ওএমআর শিট ফেরত দেওয়ারও কোনও প্রমাণ পায়নি  সিবিআই। এছাড়াও ওএমআর শিট নষ্ট করার প্রমাণও পায়নি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

    তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, লিখিত পরীক্ষার পরে ওএমআর শিট এবিএস ইনফোজোনের দপ্তরে আনা হত। তারপর তালিকা অনুযায়ী বিশেষ বিশেষ প্রার্থীদের ওএমআর শিট আলাদা করা হত। এই তালিকা পেনসিলে লেখা থাকত। ওই বাছাই তালিকায় নাম থাকা কোনও প্রার্থীর ওএমআর শিট ফাঁকা থাকলে ওই অফিসে তা পূরণ করে দেওয়া হত। ওই বিশেষ তালিকায় থাকা কোনও পরীক্ষার্থী ওএমআর শিটে ভুল উত্তর লিখে জমা করলে পুরো ওএমআরটাই বদলে দেওয়া হত। অয়ন শীলের নির্দেশে সম্পূর্ণ কর্মকাণ্ড চলত। সিবিআই চার্জশিটে এই দাবিই করেছে।

    তদন্তকারীরা জানিয়েছে, অভিযুক্ত এবিএস ইনফোজেন সংস্থায় এই কাজ করার জন্য নির্দিষ্ট চারজন লোক ছিলেন। আরও এক কর্মচারী ডেটা এন্ট্রির কাজ তদারকি করতেন। ওই কর্মীদের বয়ান নথিভুক্ত করেছে সিবিআই। উল্লেখ্য, পরীক্ষাস্থল, ক্রমিকসংখ্যা, প্রার্থীর জন্মতারিখ, পদ ইত্যাদি তথ্য সব সঠিকভাবে পূরণ করা হত। তদন্তকারীদের দাবি, পুরসভার নিয়োগ পরীক্ষায় একাধিক ওএমআরে প্রার্থীদের হাতের লেখা একই রকম। তদন্ত চলাকালীন বাজেয়াপ্ত করা একাধিক নথি, এবিএস ইনফোজোনের কর্মীদের হাতের লেখার নমুনা ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। শুধু লিখিত পরীক্ষাতেই নয়, ইন্টারভিউতেও ওই পরীক্ষার্থীদের বেশি নম্বর দেওয়া হত।

    অয়নের সংস্থা এবিএস ইনফোজেন রাজ্যের ২০টি পুরসভায় নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বরাত পেয়েছিল। তার মধ্যে ৩টি পুরসভায় কোনও নিয়োগ হয়নি। ১৭টি পুরসভায় অয়নের সংস্থার মাধ্যমে ২৬৪ জন টেকনিক‍্যাল এবং ১,৫৬৫ জন নন টেকনিক্যাল বিভিন্ন পদে নিয়োগ হয়। অর্থাৎ মোট ১,৮২৯ জনকে নিয়োগ করা হয়েছিল। বেশিরভাগই গ্রুপ-ডি পদেই নিয়োগ হয়েছিল। অয়নের সংস্থা কীভাবে টেন্ডার পেয়েছিল তা-ও খতিয়ে দেখছে সিবিআই।

    বরাহনগর, হালিশহর, টিটাগড়, কামারহাটি, উত্তর দমদম, রানাঘাট, বীরনগর-সহ আটটি পুরসভার নিয়োগ পরীক্ষার প্রার্থীদের ওএমআর শিট  উদ্ধার করেছে সিবিআই। বাজেয়াপ্ত করা ওএমআর গুলি থেকে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, প্রার্থী যে কটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন, তার তুলনায় প্রাপ্ত নম্বর বেশি। অনেক ওএমআর শিটে প্রার্থীর স্বাক্ষর, পরিদর্শকের স্বাক্ষর নেই, অথবা স্বাক্ষর নকল করা হয়েছে। স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে অয়নকে প্রথম গ্রেপ্তার করেছিল ইডি। এরপর পুরসভার নিয়োগেও দুর্নীতির হদিস পান তদন্তকারীরা।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)