• সিইও-র দাবি উল্টো করে অমর্ত্য সেনের বাড়িতে এসআইআর নোটিস, ‘হয়রানি’ অভিযোগে সরব তৃণমূল
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • অমর্ত্য সেনের আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠদের অভিযোগ, তাঁকে অযথা হয়রানির জন্যই এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। আর তৃণমূলের দাবি, এতে প্রমাণ হয়ে গেল দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পূর্ণ তথ্য জেনেই বক্তব্য রেখেছিলেন। কমিশন শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আড়াল করতে পারেনি বলেও তোপ দেগেছে শাসক দল। তৃণমূলের আরও অভিযোগ, বিশ্ববরেণ্য অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বাঙালি বলেই তাঁকে টার্গেট করা হচ্ছে।

    বুধবার সকালে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিএলও সোমব্রত মুখোপাধ্যায় আরও দু’জনকে সঙ্গে নিয়ে ‘প্রতীচী’-তে যান। অমর্ত্য সেনের আত্মীয় শান্তভানু সেন জানান, আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করেই তাঁরা নোটিস গ্রহণ করেছেন।

    নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রবাসী ভারতীয় হিসেবে নথিভুক্ত অমর্ত্য সেনের গণনাপত্রে কিছু তথ্যগত অসঙ্গতি রয়েছে। তাঁর ঘোষণাপত্র অনুযায়ী, তাঁর সঙ্গে বাবা অথবা মায়ের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছর, যা ‘সাধারণত প্রত্যাশিত নয়’। সেই কারণেই ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নথিপত্র দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে। আগামী ১৬ জানুয়ারি দুপুর ১২টায় তাঁর বাড়িতে গিয়ে শুনানি হবে বলেও নোটিসে উল্লেখ রয়েছে। তার আগে প্রয়োজনীয় সব নথি প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।

    বোলপুরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার অমর্ত্য সেন কর্মসূত্রে বছরের বেশির ভাগ সময় ভারতের বাইরে থাকেন। এই প্রেক্ষিতে নোটিস নিয়ে শান্তভানু সেন বলেন, ‘সকলে জানেন অমর্ত্য সেন কে। এত বয়স্ক একজন মানুষকে এ ভাবে শুধু হয়রান করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেই নোটিস গ্রহণ করেছি।’

    উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বীরভূমের রামপুরহাটে এক সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদকে এসআইআর-এর নোটিস পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই কমিশনের তরফে জানানো হয়েছিল, অমর্ত্য সেনকে শুনানির জন্য ডাকা হয়নি, শুধু তাঁর জমা দেওয়া ফর্মে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ রয়েছে।

    বুধবার সরাসরি ‘প্রতীচী’-তে গিয়ে নোটিস দেওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেস সমাজমাধ্যমে কটাক্ষ করে লিখেছে,

    ‘একজন নোবেলজয়ী কি সন্দেহের ঊর্ধ্বে নন? নাকি তিনি বাঙালি বলেই শুনানির নোটিস দিতে হবে, যেন তিনি কোনও অপরাধী।’ একই সঙ্গে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে বিঁধে তৃণমূলের বক্তব্য, এসআইআর প্রক্রিয়া এখন প্রহসনে পরিণত হয়েছে। সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও অযথা বিতর্ক ও হয়রানির মধ্যে ফেলা হচ্ছে বলেই অভিযোগ শাসক দলের।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)