তপনের অসিত সরকারের বাড়িতে এ দিন উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিজেপি বুথ সভাপতি গৌতম বর্মণও। তাঁর অভিযোগ, বিপদের সময়ে দল পাশে দাঁড়ায়নি। অভিষেকের সামনে সোজাসাপটা অভিযোগ গৌতমের, ‘মহারাষ্ট্রে আটক হওয়ার পরে আমরা ফোন করেছিলাম। বিজেপির কেউ ফোন ধরেননি। সাংসদ সুকান্ত মজুমদারও কোনওরকম সাহায্য করেননি।‘
প্রত্যেকের কাছ থেকে মুক্তির শর্তে ১.৫ লক্ষ টাকা করে দাবি করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন অসিত ও গৌতম। সেই সময়ে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব ও সাংসদের কাছে সাহায্য চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।
তাঁদের কথা শুনে অভিষেক বলেন, ‘বাংলাদেশি তকমা দিয়ে মহারাষ্ট্রের জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের পরিবার স্থানীয় সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের কাছে গিয়েছিলেন। মহারাষ্ট্রে বিজেপি, সুকান্ত কেউ কিছু করেননি। আমরা জানতে পেরে কাঠখড় পুড়িয়ে ছাড়িয়ে এনেছি।‘
অভিষেক আরও বলেন, ‘এখানে তৃণমূল, বিজেপি কীসের। রাজনীতি করা মানে তো মানুষের পাশে দাঁড়ানো। যাঁরা আপনাকে জিতিয়েছে তাঁদের প্রতি আপনাদের দায়িত্ব, কর্তব্য নেই?’ এদিন বালুরঘাট থেকে সুকান্তবাবুকে ‘ফ্যাশন শোয়ের মাস্টার’, ‘স্টপেজ মিনিস্টার’ বলেও কটাক্ষ করেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
অভিষেকের কটাক্ষের জবাব দিয়েছেন বালুরঘাটের বিজেপ সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তিনি পাল্টা বলেন, ‘তৃণমূলের আমলে বালুরঘাটের কী কাজ হয়েছিল, আর আমার আমলে কী কী কাজ হয়েছে তা মানুষ জানেন। ভোট বাক্সেই মানুষ এর জবাব দেবে।‘
মঙ্গলবার রামপুরহাটে জনসভা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জনসভা শেষে তারাপীঠে অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে গিয়ে পুজো দেন। তারপর হাসপাতালে সোনালি বিবির সঙ্গে দেখা করতে যান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোনালির ছেলের নাম রাখেন ‘আপন’। এদিনও সোনালির প্রসঙ্গ তোলেন অভিষেক। তিনি বলেন, একজন অন্তস্বত্ত্বা মহিলাকে যেভাবে অত্যাচার করা হয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। বাংলায় কথা বলাই ওর একমাত্র দোষ বলে জানান তৃণমূল সাংসদ।
সেই সঙ্গে রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিন রাজ্যে কাজে না যাওয়ার পারমর্শ দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মহারাষ্ট্রে আর কাজের জন্য না যেতে বলেন তিনি। বাংলায় কাজের ব্যবস্থা হবে বলে আশ্বাস দেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘এখানেই কাজের ব্যবস্থা করা হবে। রাজ্য ছেড়ে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে, তা মেনে নেওয়া যায় না।‘