বাসুদেব চট্টোপাধ্য়ায়: প্রেসক্রিপশন উপেক্ষা করে ‘হাই পাওয়ার’ ওষুধ, আর তাতেই অন্তঃসত্ত্বা মহিলার গর্ভপাত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিক্ষোভ জেমারিতে। সালানপুরের জেমারি এলাকায় চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ঘিরে উত্তাল পরিস্থিতি। চিকিৎসকের স্পষ্ট প্রেসক্রিপশন উপেক্ষা করে এক মেডিকেল স্টোরের দোকানদার নিজের খেয়ালে ‘হাই পাওয়ার’ ওষুধ দেওয়ায় এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার গর্ভপাত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার গোটা জেমারি এলাকায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসানসোলের সালানপুরের জেমারি শিরিষবেড়িয়া এলাকার বাসিন্দা চাঁদনি মাহাতো অসুস্থ বোধ করায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসক পরীক্ষা করে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ প্রেসক্রিপশনে লিখে দেন। অভিযোগ, সেই প্রেসক্রিপশন নিয়ে জেমারি রেলগেট সংলগ্ন এক মেডিকেল স্টোরে গেলে দোকানদার চিকিৎসকের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে অনেক বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন ‘হাই পাওয়ার’ ওষুধ ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ।
পরিবারের দাবি, ওই ওষুধ খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই চাঁদনি মাহাতোর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। শুরু হয় অসহ্য যন্ত্রণা ও তীব্র রক্তক্ষরণ। দ্রুত তাঁকে আবার চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে ওষুধ দেখে চিকিৎসক নিজেই বিস্মিত হন। তিনি জানান, এই ওষুধ নির্ধারিত ডোজের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী এবং অন্তঃসত্ত্বা মহিলার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে চাঁদনি মাহাতোকে রবিবার পিঠাকেয়ারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর গর্ভপাত হয়ে গিয়েছে।
এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযুক্ত মেডিকেল স্টোর ঘেরাও করে দোকান বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। যদিও অভিযুক্ত দোকানদার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, চিকিৎসকের সঙ্গেই কথা বলেই তিনি ওই ওষুধ দিয়েছিলেন।
ঘটনার খবর পেয়ে সালানপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।