অর্ণবাংশু নিয়োগী: এসএসসি নিয়োগ (SSC recruitment) প্রক্রিয়ায় ঘোষিত টেন্টেড (দাগি ) (Tainted candidates) প্রার্থীরা ফের আদালতের দ্বারস্থ। কোন কোন নথির ভিত্তিতে বা তদন্তের ভিত্তিতে তাদেরকে দাগী হিসেবে চিহ্নিত করা হল, সেই সমস্ত নথি তাঁরা পেতে চায়। তাই আলিপুর সিবিআই আদালতে (Alipore CBI Court) নিয়োগ প্রক্রিয়ার মামলায় জমা করা চার্জশিট এবং নথির কপি চেয়ে আবেদন টেনটেড প্রার্থীদের।
যদিও আলিপুর আদালত তাদের এই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ:--
যারা আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা মামলার সঙ্গে সংযুক্ত অভিযুক্ত নয় বা মামলার সঙ্গে সংযুক্ত সাক্ষী নয়। ফলে ফৌজদারী আইন অনুযায়ী মামলার সঙ্গে সংযুক্ত সাক্ষী এবং অভিযুক্তরাই নথি এবং চার্জশিটের কপি পাওয়ার অধিকারী। আদালতের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছে কিছু টেন্টেড (দাগি) প্রার্থীরা।
এই সমস্ত দাগি প্রার্থীদের দাবি তাদেরকে এই মামলায় অভিযুক্ত হিসাবে ঘোষণা করুক আদালত। আবেদনকারীদের দাবি তাদেরকে দাগি হিসেবে চিহ্নিত করা হল, কিন্তু মামলায় সংযুক্ত করে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনে সুযোগ দেওয়া হল না এমনকি তাদের কোন কোন নথির ভিত্তিতে দাগী হিসাবে চিহ্নিত করা হলো সেটাও তাদের কাছে অন্ধকারে। ভারতীয় আইন অনুযায়ী তাঁরা দাবি জানিয়েছে ওই সকল নথি পেলে তারা আত্মপক্ষ সমর্থনে সুযোগ পাবে। তাই তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কলকাতা হাইকোর্টে এসএসসি নিয়োগ নিয়ে একাধিক ইসু উত্থাপন হয়েছে। সেই জট কাটিয়ে নিয়োগ সম্পন্ন করতে সময় লাগবে মনে করছে পর্ষদ। তাই এই আবেদন।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে হাই কোর্ট শুধুমাত্র মামলাকারীদের জন্য এই নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি সিংহ জানান, ইন্টারভিউয়ের নম্বর মুখবন্ধ খামে আদালতে জমা দিতে হবে এসএসসি-কে। ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া ভিডিয়োগ্রাফি করার বিষয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানাবে কমিশন। ওই চাকরিপ্রার্থীদের বয়স পেরিয়ে যাওয়ার কারণে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে দেয়নি এসএসসি। আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম শুনানিপর্বে জানিয়েছিলেন, মামলাকারীর ফর্ম পূরণ করেছিলেন, পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন এবং তাঁদের নথি যাচাইও হয়েছিল। পরে জানানো হয়, বয়স পেরিয়ে যাওয়ার কারণে ইন্টারভিউ নেওয়া হবে না।
এর আগে, এসএসসি মামলায় বড় নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। ২০১৬-র এসএসসিতে অংশগ্রহণকারী ওয়েটলিস্টে থাকা চাকরিপ্রার্থীদেরও ইন্টারভিউ নেওয়ার নির্দেশ। বয়স পেরিয়ে যাওয়ার কারণে যাদের ইন্টারভিউতে ডাকা হয়নি, তাদের ইন্টারভিউতে নেওয়ার জন্য এসএসসিকে নির্দেশ।
এই চাকরিপ্রার্থীরা ফর্ম পূরণ করেছিলেন, পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন এবং নথি যাচাইও হয়েছিল। কিন্তু তারপর তাদের জানানো হয় যে তাদের বয়স পেরিয়ে যাওয়ার কারণে ইন্টারভিউ নেওয়া হবে না। আদালতে এমনটাই দাবি করেন মামলাকারীদের আইনজীবীর। মামলাকারীদের আইনজীবী আরও দাবি করেন যে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী "যোগ্যরা " বয়সজনিত ছাড় পাবেন। কিন্তু এক্ষেত্রে সেটাও দেওয়া হচ্ছে না। এর পরিপ্রেক্ষিতেই হাইকোর্টে দায়ের হয় মামলা।
সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি অমৃতা সিনহা নির্দেশ দেন, ২০১৬-র এসএসসিতে অংশগ্রহণকারী ওয়েটিং লিস্টে থাকা চাকরিপ্রার্থীদেরও ইন্টারভিউ নিতে হবে। বয়স পেরিয়ে যাওয়ার কারণে যাদের ইন্টারভিউতে ডাকা হয়নি, তাদেরও ইন্টারভিউ নিতে হবে। শুধুমাত্র মামলাকারী চাকরিপ্রার্থীদের ইন্টারভিউ নেওয়া হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
একইসঙ্গে বিচারপতি অমৃতা সিনহা আরও নির্দেশ দিয়েছেন যে, ইন্টারভিউয়ের পর সেই ইন্টারভিউয়ের নম্বর মুখবন্ধ খামে আদালতে জমা দিতে হবে এসএসসি-কে। পাশাপাশি ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া ভিডিওগ্রাফি করার বিষয়েও নিজেদের সিদ্ধান্ত জানাবে কমিশন।