কমলাক্ষ ভট্টাচার্য: ভোটের মুখে ঘর বাঁধল বঙ্গ বিজেপি। অবশেষে বিজেপির রাজ্য তালিকা ঘোষণা। কারা পেলেন নতুন দায়িত্ব? কারা পড়লেন বাদ? শমীকের টিমে গুরুত্ব কার?
আগেই রাজ্য বিজেপির নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিজেপির ‘আদি’ নেতা শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। তাঁকে মাথায় রেখে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ১২ জনকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে রাখা হয়েছে। সেই তালিকায় নাম রয়েছে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক (Nishith Pramanik)। জায়গা পেয়েছেন মনোজ টিগ্গা, বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। তৃণমূল থেকে পদ্মশিবিরে যোগ দেওয়া তাপস রায়কেও ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে রাখা হয়েছে। দলে ব্রাত্য থাকার অভিযোগ তোলা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কমিটিতে রাখা হয়েছে।
গত বছরের জুলাইয়ে রাজ্য সভাপতি পদে বসেন শমীক। দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্য কমিটি ঘোষণার কথা ছিল। তবে আদি নব্য কোন্দলের জেরে সেই কমিটি গঠন ক্রমশই পিছিয়েছে। অবশেষে ভোটের মুখে এদিন বঙ্গ বিজেপির তরফে ৩৫ জনের রাজ্য কমিটি প্রকাশ করা হল। প্রত্যাশা মতোই এবারের রাজ্য কমিটিতে পুরনোদের আধিক্য রয়েছে। কয়েকজন নতুনকেও আনা হয়েছে। ৩৫ জনের রাজ্য কমিটিতে মহিলার সংখ্যা সাত অর্থাৎ শতকরা ২০ শতাংশ।
রাজ্য কমিটিতে রয়েছেন রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়।
নতুন সহ-সভাপতি জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়,মনোজ টিগ্গা,
তাৎপর্যপূর্ণভাবে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসা উত্তর কলকাতার বর্ষীয়ান নেতা তাপস রায়কে শুধু রাজ্য কমিটিতে আনা হল তাই নয়, তাঁকে দেওয়া হয়েছে রাজ্য সহ সভাপতির পদও। অন্যদিকে ২০১৯ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়ার পর রাজ্য সহ সভাপতি পদ পাওয়া ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংকে এবারেও ৩৫ জনের কমিটিতে রাখা হল না।
কমিটিতে নেই রীতিশ তিওয়ারি বা সায়ন্তন বসুর নাম
বিজেপির রাজ্য কমিটির পাশাপাশি ঘোষণা হল মোর্চা সভাপতিদের নামও।
যুব ও মহিলা মোর্চার সভাপতি একই রইল। এসটি মোর্চার সভাপতি খগেন মুর্মু
বিজেপি নতুন প্রধান মুখপাত্রের দায়িত্বে দেবজিত সরকার, এতদিন দায়িত্বে ছিলেন শমীক ভট্টাচার্য, তিনি রাজ্য সভাপতি হওয়ায় ওই দায়িত্বে দেবজিত সরকার
৩ জুলাই, ২০২৫ সভাপতি হয়েছিলেন শমীক। আর কমিটি ঘোষণা হল ৭ জানুয়ারি, ২০২৬।
বর্তমান রাজ্য কমিটির তালিকা ছিল এরকম-
সভাপতিঃ শমীক ভট্টাচার্য
সহঃ সভাপতিঃ (৯)
জগন্নাথ সরকার, রথীন বোস, খগেন মুর্মু, সঞ্জয় সিং, অনিন্দ্য ব্যানার্জী, সৌমিত্র খাঁ, কৃষ্ণা বৈদ্য, সমিত দাস, মধুছন্দা কর
সাধারণ সম্পাদক( সংগঠন): অমিতাভ চক্রবর্তী
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ( সংগঠন): সতীশ ধন্দ
সাধারণ সম্পাদকঃ (৫)
অগ্নিমিত্রা পাল, দীপক বর্মণ, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতির্ময় সিং মাহাত, লকেট চ্যাটার্জী
সম্পাদকঃ (১১)
শঙ্কর ঘোষ, গোপাল চন্দ্র সাহা, গৌরীশঙ্কর ঘোষ, দীপাঞ্জন গুহ, প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল, অশোক দিন্দা, বিমান ঘোষ, নবারুণ নায়েক, সোনালী মুর্মু, লক্ষ্মণ ঘোড়ুই, উমেশ রাই।
ট্রেজারারঃ
কেদারাশিস বাপট
জয়েন্ট ট্রেজারারঃ
প্রবীণ আগরওয়াল
অফিস সম্পাদকঃ প্রনয় রায়
যুগ্ম অফিস সেক্রেটারীঃ প্রত্যুষ মন্ডল
শেষ পর্যন্ত ঘোষিত হল বিজেপির রাজ্য কমিটি।
বর্তমান ৭ মোর্চা সভাপতি
যুব মোর্চা - ইন্দ্রনীল খাঁ
মহিলা মোর্চা -ফাল্গুনী পাত্র
এস সি মোর্চা -সুদীপ দাস
এস টি মোর্চা -জুয়েল মুর্মু
কিষান মোর্চা - মহাদেব সরকার
ওবিসি মোর্চা - অজিত দাস
মাইনোরিটি মোর্চা - চালর্স নন্দী
সাধারণ সম্পাদক থাকলেন
লকেট চট্টোপাধ্যায়
জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো
এলেন বাপি গোস্বামী
সৌমিত্র খাঁ
শশী অগ্নিহোত্রী
যুব আর মহিলা মোর্চায় বদল নেই
ওবিসি মোর্চা
এস সি মোর্চা
এস টি মোর্চায় বদল
সংখ্যালঘু মোর্চাএস টি মোর্চার সভাপতি হলেন খগেন মুর্মু
কিষান মোর্চা রাজীব ভৌমিকসাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সরলেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, সহ সভাপতি দীপক বর্মন, অগ্নিমিত্রা পাল করা হল।
বিজেপি সূত্রে খবর, তাঁরা ভোটে লড়বেন সে কারণেই সরানো হল সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে।
পদাধিকারী করা হল দেবশ্রী চৌধুরী, তাপস রায় আর নিশীথ প্রামানিককে। তিন জনেই হলেন সহ সভাপতি।
এস টি মোর্চার সভাপতি ছিলেন জুয়েল মুর্মু। তিনি হবিবপুরের বিধায়ক। তাঁকে সরানো হল।
অর্থাৎ এক ব্যক্তি এক পদ। বিধায়কদের এটাই নীতি করেছিলেন সুনীল বনশাল। তাঁর সফল রূপায়ণ নতুন বিজেপির রাজ্য কমিটিতে শমীক ভট্টাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার ৬ মাস পরে নতুন কমিটি।
এই নতুন রদবদল নিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, 'এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। দলের প্রতিটি কর্মী আমার আত্মীয়। আমার অনেক ঘনিষ্ঠ নেই কমিটিতে। লক্ষ্য এটাই ২৬ এ তৃণমূলকে হারানো। সঙ্ঘবদ্ধ পরিবার বিজেপির। শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ গোটা দল।। উনি ২৪*৭ পথে আছেন'।