হেমন্ত মৈথিল, লখনউ: উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে এখন টানটান উত্তেজনা। বিধানসভা নির্বাচনের বাকি আর মাত্র এক বছর। তার আগেই লখনউয়ের অলিন্দে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে মন্ত্রিসভার রদবদলের গুঞ্জন। এই আবহে সোমবার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)। সৌজন্য সাক্ষাৎ বললেও, আদতে এই বৈঠকের রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এ দিনের বৈঠকের আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল যোগীর দেওয়া একটি বিশেষ উপহার। অযোধ্যার রামমন্দিরের একটি নয়নকাড়া প্রতিকৃতি তিনি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। এই শিল্পকর্মটি কোনও সাধারণ উপহার নয়। বরং এর পরতে পরতে লুকিয়ে রয়েছে সূক্ষ্ম কারুকার্য এবং আধ্যাত্মিকতা। প্রায় ২ কেজি সোনা এবং রুপো দিয়ে তৈরি এই প্রতিকৃতিটি কাশীর ঐতিহ্যবাহী গোলাপি মীনাকারির এক অনন্য নিদর্শন। শিল্পী কুঞ্জবিহারী সিং এটি তৈরি করেছেন।
শিল্পকর্মটির বিশেষত্ব হল এর সংখ্যাতত্ত্ব। সনাতন ধর্মে ১০৮ সংখ্যাটি অত্যন্ত পবিত্র। সেই রীতি মেনেই প্রতিকৃতিটিতে ১০৮টি অংশ রয়েছে। এটি তৈরি করতে সময় লেগেছে টানা ১০৮ দিন। এমনকী নির্মাণের সময় নিরবচ্ছিন্নভাবে ‘রাম ধুন’ গাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। হিরে খচিত এই মন্দিরের চূড়া এবং অভ্যন্তরের আলোকসজ্জা লখনউয়ের কারিগরির শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে।
বৈঠক শেষে যোগী আদিত্যনাথ সমাজমাধ্যমে জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর এই সাক্ষাৎ অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মার্গদর্শন ‘নতুন উত্তরপ্রদেশ’ গড়ার পথে বাড়তি শক্তি জোগাবে। যদিও রাজনীতির কারবারিরা মনে করছেন, শুধুমাত্র উপহার আদান-প্রদান নয়, নির্বাচনের আগে মন্ত্রিসভায় বড়সড় রদবদল নিয়ে মোদির থেকে সবুজ সংকেত নিতেই এই সফর।
একই দিনে লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর কবিন্দর গুপ্তও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। লাদাখের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং পর্যটন নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। সব মিলিয়ে, দিল্লির দরবারে এ দিন উত্তরপ্রদেশ এবং লাদাখ— দুই গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ডের প্রশাসনিক পর্যালোচনা সারলেন মোদি।