বিশ্বের ‘গ্লোবাল সার্ভিস হাব’ হওয়ার পথে উত্তরপ্রদেশ, যোগীরাজ্যে লগ্নির নয়া দিগন্ত
প্রতিদিন | ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
হেমন্ত মৈথিল, লখনউ: দেশের সীমানা ছাড়িয়ে এবার লখনউয়ের নজর বিশ্ববাজারে। উত্তরপ্রদেশকে বিশ্বের অন্যতম ‘গ্লোবাল সার্ভিস হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে বড় পদক্ষেপ করল যোগী আদিত্যনাথের সরকার। সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘উত্তরপ্রদেশ গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (জিসিসি) নীতি-২০২৪’ কার্যকর করার সবুজ সংকেত মিলেছে। এর ফলে তথ্যপ্রযুক্তি থেকে শুরু করে গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি)— সব ক্ষেত্রেই লগ্নির দুয়ার খুলে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উপস্থিতিতে আয়োজিত ওই বৈঠকে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পের নোডাল এজেন্সি হিসেবে কাজ করবে ‘ইনভেস্ট ইউপি’। মূলত বিদেশি বা ভারতীয় বহুজাতিক সংস্থাগুলি যখন নিজেদের কৌশলগত কাজের জন্য উত্তরপ্রদেশে কোনও বিশেষ ইউনিট গড়ে তুলবে, সেটিকে ‘জিসিসি’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই কেন্দ্রগুলি থেকে আইটি, ফিন্যান্স, ডিজাইন এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো উচ্চমানের পরিষেবা দেওয়া হবে।
রাজ্যের শিল্পোন্নয়ন মন্ত্রী নন্দগোপাল গুপ্ত নন্দী জানিয়েছেন, উত্তরপ্রদেশে লগ্নির পরিবেশ এখন আগের চেয়ে অনেক উন্নত। ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে পরিসংখ্যানও। চলতি আর্থিক বছরে ইতিমধ্যেই ২১টি বড় সংস্থা জিসিসি ইউনিটে লগ্নি শুরু করেছে। মন্ত্রীর দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে রাজ্যে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। মেধাবী তরুণ-তরুণীদের আর কাজের খোঁজে ভিনরাজ্যে ছুটতে হবে না।
বিনিয়োগকারীদের টানতে আর্থিক প্যাকেজের একগুচ্ছ ঘোষণা করেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। এই তালিকায় রয়েছে জমির দামে ভর্তুকি, স্ট্যাম্প ডিউটিতে ছাড় এবং ক্যাপিটাল সাবসিডি। শুধু তাই নয়, নতুন কর্মী নিয়োগ করলে সরকারের তরফে বিশেষ আর্থিক উৎসাহভাতা এবং ইপিএফ রিইম্বার্সমেন্টের সুবিধাও মিলবে। এছাড়া গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য বিশেষ ইনসেনটিভের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, শুধু অর্থ নয়, প্রযুক্তিগত এবং আইনি সহায়তা দিতেও সরকার বদ্ধপরিকর। দ্রুত ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য চালু করা হচ্ছে সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম। সব মিলিয়ে, পরিকাঠামো এবং প্রযুক্তির মেলবন্ধনে উত্তরপ্রদেশকে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই এখন যোগী সরকারের মূল লক্ষ্য।