ওড়িশায় ‘গণপিটুনি’তে মৃত জুয়েলের পরিবারের পাশে রাজ্য, চাকরির নিয়োগপত্র পেলেন মা
প্রতিদিন | ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
শাহাজাদ হোসেন, ফরাক্কা: ওড়িশায় গণপিটুনিতে মৃত বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক জুয়েল রানার মাকে চাকরি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মঙ্গলবার রাতে চাকরির নিয়োগপত্র পেলেন মৃতের মা। জানা যাচ্ছে, নাজেমা বিবিকে সুতি ১ নম্বর ব্লকের বিএলআরও অফিসে অ্যাটেন্ডেট হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে।
মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের নাম জুয়েল রানা। বয়স ২১ বছর। গত ডিসেম্বরের ২০ তারিখ জুয়েল-সহ আরও কয়েকজন যুবক ওড়িশার সম্বলপুরে কাজে যান। দিন মজুরের কাজ করতেন তাঁরা। ২৫ ডিসেম্বর রাত ৮টা ৩০ মিনিট নাগাদ জুয়েল স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে যান। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন আরিক ও পলাশ। সেখানে তাঁরা কথা বলছিলেন বাংলায়। সেই সময় পাঁচজন দুষ্কৃতীর দল সেখানে যায়। তারা মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে অশান্তি করতে থাকে। শ্রমিকরা বৈধ পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তাঁদের বাংলাদেশি বলে গণপিটুনি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। দুষ্কৃতীদের হাত থেকে কোনও মতে পালিয়ে যান আরিক ও পলাশ। পালাতে পারেননি জুয়েল। তাঁকে বেধড়ক মারধর করে দুষ্কৃতীরা। জুয়েল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। জুয়েলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
সেই ঘটনার পরই সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূলের তরফে মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, “পরিবারের পাশে আমরা রয়েছি। সবরকম সাহায্য করা হবে।” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৎপরতায় চাকরি পেলেন জুয়েল রানা। মঙ্গলবার রাতে জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সাংসদ খলিলুর রহমান মৃতের মায়ের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন।