১ এপ্রিল থেকে জনগণনার কাজ শুরুর ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার এই সংক্রান্ত গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। জানা গিয়েছে, দু’টি ধাপে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনার কাজ হবে। তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত হবে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিরোধীদের দাবি মেনে এ বারই প্রথম জনগণনায় জাতি ভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করবে কেন্দ্রীয় সরকার।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে প্রথম ধাপের জনগণনা শুরু হবে চলতি বছরের ১ এপ্রিল। চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ে হাউসলিস্টিং অ্যান্ড হাউসিং সেন্সাস হবে। অর্থাৎ বাড়ি আবাসিক না বাণিজ্যিক, ক’টি পরিবার থাকে, জল-শৌচালয়-বিদ্যুতের মতো মৌলিক সুবিধা আছে কি না, ইত্যাদি নথিভুক্ত করবেন জনগণনার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা। তবে সাধারণ মানুষ চাইলে নিজেরাই তথ্য আপলোড করতে পারবেন। এর জন্য ১৫ দিন আগে থেকে সেলফ এনিউমারেশন পর্ব চালু হয়ে যাবে।
দ্বিতীয় ধাপে বাড়ির জনসংখ্যা গণনা করা হবে। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বাড়ি বাড়ি যাবেন কর্মীরা। প্রতটি বাড়িতে কত জন থাকেন, তাঁদের বয়স-জন্মতারিখ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, ভাষা ইত্যাদি তথ্য সংগ্রহ করবেন তাঁরা। তবে আবহাওয়ার কারণে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই লাদাখ, জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডে দ্বিতীয় ধাপের কাজ শেষ করা হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
২০২৭ সালের এই জনগণনা হবে দেশের ১৬তম এবং স্বাধীনতার পর অষ্টম। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি গ্রাম, শহর এবং ওয়ার্ড স্তরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হবে। এর জন্য ইতিমধ্যেই ১১,৭১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতে প্রতি দশ বছর অন্তর জনগণনা হয়। এর আগে শেষ বার জনগণনা হয়েছিল ২০১১ সালে। কোভিডের কারণে ২০২১ সালের জনগণনা স্থগিত রাখা হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, অ্যান্ড্রয়েড ও iOS চালিত মোবাইল ফোনে বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনা হবে। একই সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়ার নজরদারি চলবে Census Management & Monitoring System পোর্টালে। হাউসলিস্টিংয়ের জন্য ব্লক ক্রিয়েটর নামে নতুন ওয়েব ম্যাপ টুলও নিয়ে আসা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।