যানজটে আটকে পড়েছিলেন এক কলেজ পড়ুয়া। বারবার হর্ন বাজাচ্ছিলেন। কিন্তু এগোনোর রাস্তা পাচ্ছিলেন না। শেষে অধৈর্য হয়ে সামনের গাড়ির চালক এক পশু চিকিৎসককে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ। বুধবার দুপুরে হুগলির চুঁচুড়ার এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। চিকিৎসকের অভিযোগের ভিত্তিতে পড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবকের নাম অর্চিস্মান মোদক। তিনি হুগলির মহসিন কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। এ দিন বাইকে চেপে কলেজে যাচ্ছিলেন তিনি। চুঁচুড়ার বালির মোড়ে যানজটে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পরে অধৈর্য হয়ে পড়েন। বার বার হর্ন বাজাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ।
অর্চিস্মানের সামনেই ছিলেন পশু চিকিৎসক বিপ্লব দাস। নিজের গাড়িতে চুঁচুড়ার চেম্বারে যাচ্ছিলেন তিনি। বিপ্লবের অভিযোগ, হর্ন বাজানোর প্রতিবাদ করায় তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন অর্চিস্মান। তাঁর কথায়, ‘আমি বার বার নিষেধ করছিলাম। কিন্তু তিনি কোনও কথা শোনেননি।’
অভিযোগ, আচমকাই বিপ্লবের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়েন অর্চিস্মান। গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করতে শুরু করেন। একজন বয়স্ক মানুষকে এ ভাবে মারতে দেখে ছুটে আসেন আশেপাশের মানুষ। তাঁরা কলেজ পড়ুয়া যুবককে মারতে উদ্যত হন। সেই সময়ে চুঁচুড়া থানার একটি টহলদারি ভ্যান সেখানে পৌঁছে ছাত্রকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
মারের চোটে বিপ্লবের নাক ফেটে যায় বলে অভিযোগ। তাঁকে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিপ্লব বলেন, ‘রাস্তা না পেয়ে আমাকে গালিগালাজ করছিল। নিষেধ করায় আমাকে মারধর করে। আমার চশমা খুলে পড়ে যায়। নাক ফেটে যায়। আমি জায়গা পেলে তবে তো সাইড দেব। সেটা শুনলই না।’ কলেজ পড়ুয়ার বিরুদ্ধে চুঁচুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। পরে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অর্চিস্মানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।