আজকাল ওয়েবডেস্ক: খাস কলকাতায় ফের যৌন লালসার শিকার এক তরুণী। এবার ঘটনাস্থল আনন্দপুর। লাগাতার তাঁকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল তাঁরই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর বিরুদ্ধে। অবশেষে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব কলকাতার আনন্দপুর এলাকায়। ধৃত ওই যুবকের নাম, কৌশিক মণ্ডল। তিনি আদতে বীরভূমের মহম্মদবাজারের বাসিন্দা। দক্ষিণ কলকাতার একটি কলেজের ছাত্র ছিলেন তিনি। বর্তমানে কৌশিক একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকুরিরত। এ ছাড়াও তাঁর পারিবারিক ব্যবসা রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বীরভূম থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, নির্যাতিতা তরুণী উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের বাসিন্দা। অভিযুক্ত যুবক ও তরুণী এক কলেজের পড়ুয়া ছিলেন। সেই সূত্রেই আলাপ ও ঘনিষ্ঠতা বাড়ে দু'জনের মধ্যে। ২০২৩ সালে ৩০ জুন রাতে চয়ন বিশ্বাস নামের এক বন্ধুর ফাঁকা ফ্ল্যাটে তরুণীকে নিয়ে গিয়েছিলেন কৌশিক। সেখানেই তাঁকে ধর্ষণ করেন।
ঘটনাটি চয়ন নামের যুবককে জানিয়েছিলেন নির্যাতিতা তরুণী। ধর্ষণের ঘটনাটি ঘিরে মুখে কুলুপ এঁটে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন চয়ন। এর পরেরদিন ৩১ জুন, আবারও তরুণীকে ধর্ষণ করেন কৌশিক। সেই রাতে বিষয়টি বাইরে ফাঁস না করার জন্য হুমকি দিয়েছিলেন কৌশিক ও চয়ন।
ধর্ষণের ঘটনাটি ঘিরে প্রথমে বারাসত পুলিশ জেলায় অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতা তরুণী। বারাসত জেলা পুলিশ থেকে এফআইআরটি আনন্দপুর থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তারই ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ধর্ষণের অভিযোগে কৌশিককে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে থাকবেন কৌশিক।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে ডিসেম্বর মাসে আনন্দপুরে আরেকটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল। প্রাক্তন প্রেমিকের বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন নির্যাতিতা। সোমবার সন্ধেয় ঘটনাটি ঘটেছিল আনন্দপুরে।
২৪ বছরের তরুণী জানিয়েছিলেন, তিনি আসানসোলের বাসিন্দা। পড়াশোনার জন্য গত কয়েক বছর ধরে নিউ গড়িয়া এলাকায় এক আবাসনে থাকতেন। বছর দেড়েক আগে বেহালার বাসিন্দা অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। যুবক বাংলা চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত। বন্ধুত্ব থেকে প্রেমের সম্পর্কে আবদ্ধ হন তাঁরা। কিন্তু কয়েক মাস পরেই সম্পর্ক ভাঙে দু'জনের। তারপর বেশ কয়েক মাস কোনও যোগাযোগ ছিল না। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরেই ওই যুবক ফের ফোন করে তাঁকে উত্যক্ত করতেন।
সোমবার বারবার তরুণীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন যুবক। সম্পর্কে ফিরে আসার জন্যেও জোর করতে থাকেন। তরুণী জানিয়েছিলেন, প্রথমে তিনি রাজি ছিলেন না। কিন্তু পরে দেখা করতে রাজি হন। সোমবার সন্ধেয় আনন্দপুরে এক আবাসনের সামনে গাড়ির মধ্যে বসে কথা বলছিলেন তাঁরা। তরুণীর অভিযোগ, সেই সময়ে পানীয়র মধ্যে নেশাদ্রব্য মিশিয়ে তাঁকে অজ্ঞান করে দেওয়া হয়। তারপরেই গাড়িতে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছিলেন তরুণী। জ্ঞান ফিরতেই পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর কথা জানান তরুণী। সেই সময় তাঁকে হুমকিও দেন যুবক। শেষমেশ আনন্দপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তরুণী।