৮০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী কিয়োন্থল রাজপ্রাসাদে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গভীর রাতে প্রাসাদ চত্বরে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান গ্রামবাসীরা। সঙ্গে সঙ্গে দমকল বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় রাস্তার সমস্যা ও কাঠের তৈরি পুরনো কাঠামোর কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে প্রাসাদের বিস্তীর্ণ অংশ ভস্মীভূত হয়ে যায়।
প্রসঙ্গত, কিয়োন্থল রাজপ্রাসাদ এক সময় কিয়োন্থল রাজ্যের প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল। স্থানীয় ইতিহাসবিদদের মতে, এই প্রাসাদে বহু দুর্লভ নথি, রাজকীয় সামগ্রী এবং ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্ম সংরক্ষিত ছিল। বিধ্বংসী এই আগুনে সেগুলির বড় অংশই নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ক্ষতি অপূরণীয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লেগে থাকতে পারে। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর না মিললেও, স্থানীয় বাসিন্দারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তাঁদের মতে, এই প্রাসাদ শুধু একটি স্থাপত্য নয়, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বহন করে চলা ইতিহাস ও পরিচয়ের প্রতীক ছিল।
এই অগ্নিকাণ্ডের পর ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত বহু প্রাচীন রাজপ্রাসাদ ও ঐতিহাসিক স্থাপনায় এখনও আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ। কিয়োন্থল রাজপ্রাসাদের ঘটনা সেই অবহেলারই করুণ পরিণতি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাজ্য প্রশাসনের তরফে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষায় আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে ৮০০ বছরের ইতিহাস যেভাবে এক রাতের আগুনের তাণ্ডবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল, তা পাহাড়ি রাজ্য হিমাচলের সাংস্কৃতিক স্মৃতিতে এক গভীর ক্ষত হয়ে রইল।