কালের ব্যবধান হলেও স্থান এক এবং পাত্রও এক। উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৩ সালে ‘নবজোয়ার যাত্রা’ করেছিলেন অভিষেক। সেই যাত্রায় মানুষ ‘জন জোয়ার’ দেখেছিল। ভোটের আগে আবার মানুষের জোয়ার দেখল ইটাহার। বুধবার ইটাহারে ‘রোড শো’ ছিল অভিষেকের। ভিড় দেখে জল মাপতে শুরু করেছে তৃণমূল। তৃণমূলের একাংশের দাবি ‘নবজোয়ার’-এর ভিড়কেও ছাপিয়ে গিয়েছে বুধবারের কর্মসূচি। ইটাহারকে হারিয়ে দিয়েছে ইটাহার নিজেই।
ইটাহার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বিধানসভা। সেখানকার তরুণ বিধায়ক মোশারফ হোসেন তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের চেয়ারম্যানও। অতএব সেই বিধানসভায় অভিষেকের কর্মসূচিতে ভিড় নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই ‘উল্লসিত’ তৃণমূল নেতৃত্ব। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা তৃণমূলের দিকে সংখ্যালঘুদের সমর্থন থাকলেও বিধানসভা ভোটের আগে তা অটুট থাকবে কি না, তা নিয়ে নানা মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা। প্রথমত, হুমায়ুন কবীরের বাবরি মসজিদ তৈরির ঘোষণা এবং শিলান্যাস এবং নতুন দল গড়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।
দ্বিতীয়ত, মালদহের মৌসম নূরের তৃণমূল ছেড়ে ঘর ওয়াপসি। এই দুই ঘটনায় তৃণমূলের প্রতি ‘বিরূপ’ ভাব থেকে জনমানসে একটা ধারণা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন শাসক শিবিরের একাংশ। পাশাপাশিই ওয়াকফ আইনের অংশবিশেষ পশ্চিমবঙ্গে চালু করা-সহ একাধিক বিষয়কে ‘সূচক’ ধরেও সংখ্যালঘু ভোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলছে ওয়াকিবহাল মহলে। সেই প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ইটাহারে এই ভিড়কে ‘মাইলফলক’ হিসেবে দেখাতে চাইছে তৃণমূল।