জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: '১৫-০ করতে হবে তৃণমূলের পক্ষে'। ছাব্বিশে ফের টার্গেট সেট করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সাফ কথা, 'বলছে বাংলায় ঘুসপেটিয়া! কাকে নোটিশ পাঠাচ্ছে অর্মত্য সেন। কাকে নোটিশ পাঠাচ্ছে দেব, কাকে নোটিশ পাঠাচ্ছে মহম্মদ শামি। দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা প্লেয়ার। যদি বিজেপির কোনও নেতা কাগজ দেখাতে বলে, আগের ওর বাবার কাগজ নিয়ে আসতে বলবেন'।
নজরে ছাব্বিশ। নতুন বছরের শুরু থেকে অ্যাকশনে অভিষেক। জেলা জেলায় চলছে প্রচার। এদিন উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারে রোড শো করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। কর্মী-সমর্থকদের তাঁর স্পষ্ট বার্তা, 'লড়াই জোরদার। তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতা কী, ইটাহার তো ট্রেলার দেখাল। আগামীদিনে সিনেমাটা দেখাতে হবে। জ যা মানুষ রাস্তা নেমেছে, এক তৃতীয়াংশের মানুষ যদি দিল্লি যায়, সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী অমিত শাহ পালাবার পথ খুঁজে পাবেন তো? উত্তর দিনাজপুরে ৯টা, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৬টা। ১৫-০ করতে হবে তৃণমূলের পক্ষে। যাঁরা SIR করে আমাদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়ে, লিস্ট থেকে নাম বাদ দিতে চেয়েছে, তাঁরা FIR করুক, SIR করুক, BIR করুক, CIR করুক। যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা'।
এর আগে, নবজোয়ার কর্মসূচির সময়েও এসেছিলেন ইটাহারে। অভিষেক বলেন, 'আগেরবার এই রাস্তা দিয়ে কর্মসূচি করে গিয়েছিলাম, FIR করেছিল বিজেপি নেতারা। তুমিও কর, কে বারণ করেছে! তোমাকে মুখ যদি লোক না দেখতে চায়. আমার মতো কিছু করার নেই'। সঙ্গে বিজেপিকে হুঁশিয়ারি, 'যত ক্ষমতা আছে, প্রয়োগ কর। কেন্দ্রীয় সরকার তোমার, নির্বাচন কমিশন তোমার। সংবাদমাধ্যমের একাংশ তোমার, বিচারব্যবস্থা একাংশ তোমার। কেন্দ্রীয় বাহিনী তোমার, সিবিআই তোমার ইডি তোমার, ইনকাম ট্যাক্স তোমার, অর্থ তোমার, গায়ের জোর তোমার। বাংলার দশকোটি মানুষ তৃণমূলের সাথে রয়েছে। যতবার লড়েছে, ভোকাট্টা! গো হারান হেরেছে'।
এদিকে মহারাষ্ট্রে কাজ করতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছিল দক্ষিণ দিনাজপুরের অসিত সরকার ও গৌতম বর্মনকে। বাংলাদেশি তকমা দিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয় বলে অভিযোগ। বালুরঘাটে পৌঁছেই 'আক্রান্ত' পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়িতে যান অভিষেক। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, পরিযায়ীরা মার খেয়েছেন, সাংসদ হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করেননি সুকান্ত!
অভিষেক বলেন, 'আমার নির্বাচিত সাংসদ বিজেপি, আর যে রাজ্যে পুলিস গ্রেফতার করেছে, সে রাজ্য়ের মুখ্যমন্ত্রী, সবকিছু কেন্দ্রীয় সরকার বা বিজেপির অঙ্গুলহেলনে হয়েছে।তাহলে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেব আমার দায়িত্ব, কর্তব্য়, আমি করতে পারি না পারি। অন্তত ফোন করে বলব। অনৈতিকভাবে জোরজবরদস্তি আমার এলাকার যে দু'জন বাঙালিকে বাংলাদেশি বলে অ্যাখ্যা দিয়ে জেলে ঢুকে দিয়েছেন। এটা ঠিক নয়, ছাড়ুন'।