• বিজেপির সঙ্গে জোট! দলের ১২ কাউন্সিলরকে সাসপেন্ড কংগ্রেসের, কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি গেরুয়া শিবিরেরও
    প্রতিদিন | ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রাজনীতিতে কী না হয়! ক্ষমতার স্বার্থে মতাদর্শগতভাবে চরম শত্রুকেও আপন করে নেওয়া যায়। সংকীর্ণ স্বার্থে ‘বন্ধু’কে হারাতে শত্রুর সঙ্গেও হাত মেলাতে হয়। মহারাষ্ট্রের অম্বরনাথ পুরসভার এমন কাণ্ডই ঘটিয়েছেন কংগ্রেস ও বিজেপির কিছু কাউন্সিলর। শিব সেনার শিণ্ডে শিবিরকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া করে নিয়েছেন তাঁরা। যার শাস্তিও পেতে হল। কংগ্রেস দলের ১২ জন কাউন্সিলরকেই বরখাস্ত করেছে। বিজেপিও সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই জোট কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

    আসলে মহারাষ্ট্রের অম্বরনাথ পুরসভায় ক্ষমতা দখল করতে জোট গঠন করেছেন বিজেপি ও কংগ্রেসের (BJP-Congress Alliance) স্থানীয় কাউন্সিলররা। ৬০ আসনের ওই পুরসভায় ৩২ জন কাউন্সিলর সমর্থন করেছেন বিজেপি-র তেজশ্রী করঞ্জুলেকে। এর মধ্যে ১৬ জন বিজেপির, ১২ জন কংগ্রেসের এবং চারজন এনসিপির অজিত পাওয়ার শিবিরের। কংগ্রেসের এক ডজন ভোট না পেলে বিজেপি জোটকে থেমে যেতে হত ২০ ভোটে। ফলে মিলত না সংখ্যাগরিষ্ঠতা। এ খবর ঠাওর হতেই সমালোচনা শুরু করে শিব সেনার শিণ্ডে শিবির। আসলে বিজেপির কাছে এই ‘ধোঁকা’ মানতে পারেনি শিণ্ডে সেনা। তাঁদের প্রশ্ন, যে বিজেপি মুখে বারবার কংগ্রেস মুক্ত ভারতের কথা বলে, তাঁরাই ক্ষমতার জন্য কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করছে।

    খবর প্রকাশ্যে আসতেই কংগ্রেস পদক্ষেপ করে। কংগ্রেসের রাজ্য নেতৃত্ব সাফ বলে দিয়েছে, দলের কাউন্সিলরদের ওই আচরণ সমর্থনযোগ্য নয়। দলীয় টিকিটে জিতে দলবিরোধী কাজ মানা হবে না। ওই ১২ জন কাউন্সিলরকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। বিজেপিও কড়া অবস্থান নিয়েছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিস বলে দিচ্ছেন, “এই জোট মানা যাবে না। যদি কোনও স্থানীয় নেতা এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েও থাকেন, তাহলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই ওই জোট ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    কিন্তু দু’দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যতই জোট ভাঙার এবং নিচুতলার কর্মীদের শাস্তির নির্দেশ দিক না কেন, কার্যক্ষেত্রে ওই জোট অস্বস্তি বাড়িয়েছে দু’দলেরই। সেই অস্বস্তি কাটাতে তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)