• টাকার বিনিময়ে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট! বিতর্কে হাবড়ার সরকারি স্কুল, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা
    প্রতিদিন | ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • অর্ণব দাস, বারাসত: চতুর্থ শ্রেণির পরবর্তীতে প্রাথমিক বিদ্যালয় ছেড়ে ভর্তি হতে হয় উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে। তার জন্য নতুন স্কুলে জমা করতে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি)। সরকারি স্কুলে এই সার্টিফিকেট নিতে প্রয়োজন হয় না কোনও টাকার। কিন্তু হাবড়া জুনিয়র বেসিক স্কুলে এই টিসির বিনিময়ে রসিদ ছাড়াই পড়ুয়া পিছু ৩০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবার তৃণমূলের জেলা শিক্ষক সেলের নেতা। তাই, স্বাভাবিকভাবে ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তাপও বেড়েছে। হাবড়া থানায় এনিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন অভিভাবকরা।

    ক্ষুব্ধ অভিভাবক রুমা বিশ্বাস জানিয়েছেন, “টিসি’র জন্য প্রথমে আবেদন করতে হচ্ছে। এরজন্য কোনো স্কুল ১০টাকা নিচ্ছে, কেউ আবার টাকা নিচ্ছে না। কিন্তু এই স্কুলে ৩০০টাকা ধার্য করছে। কোনও রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। গত বছর স্কুলে নতুন প্রধান শিক্ষক আসার পরে এটা চালু করেছে। এর আগে এক টাকাও নেওয়া হত না।” আরেক অভিভাবক জগন্নাথ সাহার অভিযোগ, “টাকা দিয়ে টিসি নেওয়ার পরেও এখন অস্বীকার করছে। যে খাতায় টিসি নেওয়ার সময় টাকা লেখা ছিল, সেটাও বের করতে চাইছে না।” থানায় অভিযোগ দায়ের করা অভিভাবক নির্মল মল্লিক জানিয়েছেন, “টাকা না দিলে টিসি দেবে না বলে প্রধান শিক্ষক হুমকি দিচ্ছে। এই কারণে থানায় অভিযোগ জানিয়েছি।” অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, যাঁরা টাকা দিতে পারছেন না, তাঁদের এখনও টিসি আটকে রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালে দেওয়া টিসিতে ২০২৫ সাল লেখা রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

    স্থানীয় বিজেপি নেতা দেবজ্যোতি দাম বলেন, “তৃণমূল আর কয়েক মাস পরেই ক্ষমতাচ্যুত হবে জেনে এখন পড়ুয়াদের থেকে ৩০০ টাকা নিতেও ছাড়ছে না। তৃণমলের শেখানো পথেও ওদের শিক্ষক সেলের নেতা এমনটা করছে।” এনিয়ে স্কুলের তরফে কেউ মন্তব্য করতে চায়নি। তবে হাবড়া পুরসভার চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা জানিয়েছেন, “টিসি দেওয়ার জন্য কোনও টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই। খোঁজ নিয়ে দেখবো। যদি এমনটা ঘটে থাকে, তবে দলীয় স্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)