কামড়ানোই নয়, কুকুরের জন্য দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে, মন্তব্য সর্বোচ্চ আদালতের
বর্তমান | ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
নয়াদিল্লি: কেউ কুকুরের মন বুঝতে পারে না। তারা কখন যে কী করবে, কারও ধারণা নেই। শুধু কামড়ানোই নয়, দুর্ঘটনারও কারণ হতে পারে পথ কুকুর। তাই রাস্তাগুলিকে কুকুর মুক্ত করতেই হবে। বুধবার দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এই মন্তব্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট। গত ৭ নভেম্বর দেশজুড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাস ও রেলস্টেশন সহ সমস্ত জনবহুল এলাকা থেকে পথ কুকুরকে সরিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করতে হবে বলে নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। এরপরই তাঁদের মতামত শোনা হয়নি বলে জানায় বিভিন্ন পশুপ্রেমী সংগঠন। এই অবস্থায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার সেই মামলার শুনানি ছিল বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এন ভি আনজারিয়ার বেঞ্চে। এদিন আদালত ‘প্রতিকারের থেকে প্রতিরোধ ভালো’ এই আপ্তবাক্য মনে করিয়ে রাস্তাকে কুকুর মুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ জানিয়েছে, রাস্তায় কুকুরের বিচরণ একটি বিপজ্জক প্রবণতা। যানবাহন, বিশেষত মোটর সাইকেল বা সাইকেলের ক্ষেত্রে তা প্রাণঘাতী হতে পারে। আদালতের কথায়, ‘কুকুরে কামড়ানোটাই এক্ষেত্রে একমাত্র বিবেচ্য নয়। প্রায়ই চলন্ত সাইকেলকে কুকুর ধাওয়া করে। এর ফলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’ এরপরেই মোক্ষম প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের কথায়, ‘সকালে কোন কুকুর কোন মুডে রয়েছে, তা বুঝবেন কী করে?’
এদিন পশু অধিকার সংগঠনের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল বলেন, ‘আমি যখন পড়তাম, তখন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রচুর কুকুর ছিল। সেগুলি কখনও কামড়ায়নি। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রচুর কুকুর রয়েছে।’ আদালত তখন জানায়, ‘আপনার তথ্য বস্তাপচা। বেঙ্গালুরুর ন্যাশনাল ল স্কুল অব ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটিতে বেশ কয়েকটি কুকুরে কামড়ানোর ঘটনা সামনে এসেছে।’ তিন সদস্যের বেঞ্চ জানিয়েছে, কুকুরগুলিকে গুলি করে মেরে ফেলার কথা কেউ বলছে না। কেবল তাদের রাস্তা থেকে সরানোর কথা বলা হচ্ছে।