জবরদখলমুক্ত অভিযান ঘিরে ধুন্ধুমার দিল্লিতে, গ্রেপ্তার পাঁচ
বর্তমান | ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ১৯৭৬ থেকে ২০২৬। মাঝখানে ৫০ বছরের ব্যবধান। শুধু তাই নয়। দিল্লির তখতে পাল্টে গিয়েছে কেন্দ্রের শাসক দলও। প্রায় পাঁচ দশকের সময়সীমাকে যেন জুড়ে দিল দিল্লির তুর্কমান গেট। ১৯৭৬ সালের কোনও এক এপ্রিলে সঞ্জয় গান্ধী তাঁর সঙ্গী ডিডিএর তৎকালীন শীর্ষ কর্তা জগমোহন মালহোত্রাকে বলেছিলেন, তুর্কমান গেট থেকে আমি জামা মসজিদ স্পষ্ট দেখতে চাই। জরুরি পরিস্থিতির প্রসঙ্গে বিভিন্ন সময় এতথ্য তুলে ধরেছে গেরুয়া শিবির। নিতান্তই হালকা চালে বলা সঞ্জয় গান্ধীর ওই মন্তব্যকে রীতিমতো গুরুত্ব দিয়েছিলেন মালহোত্রা। ফলস্বরূপ দিনকয়েকের মধ্যেই মধ্যবর্তী অংশে একের পর এক বস্তি, ঝুপড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ডিডিএর বিরুদ্ধে। দেশের প্রথম ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ হিসেবেও ওই ঘটনাকে মনে করেন অনেকেই। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গেলে পুলিসের গুলিতে সেইসময় প্রাণ হারান অন্তত ছ’জন। ৫০ বছর পর যেন ওই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল দিল্লির তুর্কমান গেটে। ৬ জানুয়ারি রাতের অন্ধকারে জবলদখল মুক্ত করার অভিযান চালাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের আওতাধীন দিল্লি পুলিস এবং দিল্লি পুরনিগম।
রাত প্রায় ১টা নাগাদ ৩০টিরও বেশি বুলডোজার নিয়ে সেখানে হাজির হলেন পুলিস এবং পুরনিগমের আধিকারিকরা। অন্তত শ’দুয়েক স্থানীয় বাসিন্দা মুহূর্তেই ঘিরে ফেললেন তাঁদের। প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে সরকারি আধিকারিকদের লক্ষ্য করে পাথর বৃষ্টি শুরু করে বাসিন্দাদের একাংশ। তাতে বেশ কয়েকজন পুলিসকর্মী আহত হন। ঘটনাস্থল থেকেই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। দিল্লির তুর্কমান গেটের এহেন ঘটনায় রীতিমতো হুলুস্থুলু পড়ে গিয়েছে। একসময় পরিস্থিতি বেগতিক হয়ে পড়লে র্যাফ নামাতে বাধ্য হয় প্রশাসন।
বিজেপি শিবিরের দাবি, কোনও অনৈতিক কাজ করেনি দিল্লি পুরনিগম। আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতেই ওই পদক্ষেপ করা হয়েছিল। জবরদখল মুক্ত করার আগে একাধিকবার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠকও করেন সরকারি আধিকারিকরা। কিছু দুষ্কৃতী পরিস্থিতি অন্য দিকে নিয়ে যেতে চেয়েছে। তাতে ইন্ধন জোগাচ্ছে কিছু বিরোধী রাজনৈতিক দল। বিজেপির অভিযোগ, ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে দুষ্কৃতীদের প্রত্যক্ষ মদত দিয়েছেন সপার এক নেতা। দিল্লি পুরনিগমের শীর্ষকর্তাদেরও দাবি, সংলগ্ন মসজিদের কোনও ক্ষতিই করা হয়নি। বাকি যা করা হয়েছে, তা কোর্ট অর্ডার মেনেই। যদিও বিরোধীদের প্রশ্ন, সবকিছু আইন মেনে হলে জবরদখল মুক্ত করার জন্য রাতের অন্ধকারকে বেছে নিতে হল কেন? কী লুকোতে চাইছে বিজেপি সরকার? বুধবার ভোররাতের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে ঠিকই। কিন্তু এদিন দিনভর চাপা উত্তেজনা ছিল গোটা এলাকায়। অধিকাংশ দোকানপাটই ছিল বন্ধ। ভাঙচুর হয়ে পড়ে থাকা বাইক, পুলিসকর্মীদের ব্যবহৃত মাস্ক - রাতের ডামাডোলের চিহ্ন ছড়িয়েছিল সর্বত্রই। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিস বাহিনী। রয়েছেন আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানেরাও।