লখনউ: উত্তরপ্রদেশে কমিশন প্রকাশিত খসড়া তালিকায় বাদ পড়েছে মোট ২ কোটি ৯৮ লক্ষ ভোটারের নাম। জেলাভিত্তিক বিচারে দেখা যাচ্ছে তালিকায় সবার উপরে নাম লখনউ। পাশাপাশি গাজিয়াবাদ, কানপুর, মিরাট, প্রয়াগরাজ, আগ্রা, বারাণসী ও বেরিলির মতো বড় শহরেও লক্ষাধিক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।
কমিসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে সর্বাধিক নাম বাদ পড়েছে রাজ্যের রাজধানী লখনউয়ে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কেন্দ্রে অন্তত ১২ লক্ষ (৩০.০৪ শতাংশ) ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এর পরেই রয়েছে গাজিয়াবাদ, যেখানে ৮ লক্ষ ১৮ হাজার (২৮.৮৩ শতাংশ) ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। কানপুরে বাদ পড়েছে ৯ লক্ষ ২ হাজার (২৫.৫০ শতাংশ) ভোটারের নাম, মিরাটে ৬ লক্ষ ৬৫ হাজার (২৪.৬৫ শতাংশ), এবং বারাণসীতে ৫ লক্ষ ৭৩ হাজার (১৮.১৮ শতাংশ) ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের মতে, এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার প্রধান কারণ শহরাঞ্চলের মানুষের স্থানান্তরের প্রবণতা। অনেকেই চাকরি বা পড়াশোনার কারণে অন্য জেলায় বা রাজ্যের বাইরে চলে গিয়েছেন। খসড়া তালিকায় বহু ভোটারকে ‘স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার ফলে তাঁদের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। ইনিউমারেশন পর্বে দেখা যায়, শহর ও গ্রাম উভয় এলাকায় দ্বৈতভাবে নাম নথিভুক্ত থাকা বহু ভোটার তাঁদের গ্রামীণ পরিচয় বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আধিকারিকদের মতে, গ্রামীণ কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া, গ্রামের সম্পত্তির সঙ্গে সম্পর্কর মতো কারণেই ভোটাররা গ্রামের সঙ্গে নিজেদের সংযোগ রাখতে আগ্রহী হয়েছেন। এদিকে নেপাল সীমান্তবর্তী গ্রামীণ জেলা বলরামপুর, বাহরাইচ এবং সিদ্ধার্থনগরেও ভোটার তালিকা থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, ২০০৩ সালের পর এই প্রথম এত বড় পরিসরে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ হচ্ছে। যাঁদের নাম ভুল করে বাদ পড়েছে তাঁরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলে আবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে প্রতিটি আপত্তি ও দাবি খতিয়ে দেখা হবে।