অস্বস্তির মুখে পড়ে ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টায় বিজেপি, মহারাষ্ট্রে পুরবোর্ড গঠন
বর্তমান | ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
মুম্বই: বিধানসভা ভোটের পর মুখ্যমন্ত্রী হওয়া নিয়ে একনাথ সিন্ধে ও দেবেন্দ্র ফড়নবিশের মধ্যে দড়ি টানাটানির সাক্ষী ছিল মহারাষ্ট্র। পরবর্তী সময়ে বারবার জোটের অন্দরে ফাটলের ছবি সামনে এসেছে। পুরসভার ভোটকে কেন্দ্র করে তা ফের মাথাচাড়া দিয়েছে। এবার থানের আম্বেরনাথ পুরসভায় একনাথ সিন্ধের শিবসেনাকে কোণঠাসা করতে ও গদি আঁকড়ে রাখার জন্য চিরশত্রু কংগ্রেসের ‘হাত’ ধরল বিজেপি। বিষয়টি সামনে আসতেই অস্বস্তির মুখে পড়ে ১২ কাউন্সিলারকে সাসপেন্ড করেছে কংগ্রেস। বিড়ম্বনায় পড়েছে বিজেপিও। দলের সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। শুধু আম্বেরনাথ পুরসভাই নয়, আকোলা জেলার একটি পুর বোর্ড গঠনে গেরুয়া শিবির জোট বাঁধে মিমের সঙ্গেও।
এই ঘটনা ঘিরে তোলপাড় মহারাষ্ট্রের রাজনীতি। বুধবারই বিষয়টি সামনে এসেছে। ভোটের পর আম্বেরনাথ পুর বোর্ড গঠনের সময় কংগ্রেস ও অজিত পাওয়ারের দলের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে গেরুয়া শিবির। এখানেই শেষ নয়। আকোলা জেলার আকোট পুর পরিষদে সবাইকে চমকে দিয়ে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির মিমের সঙ্গে জোট বেঁধেছে বিজেপি। গদির লোভে রাজ্য ও কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দলের এমন কর্মকাণ্ডে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টায় দলের স্থানীয় নেতাদের কড়া সমালোচনা করেছেন ফড়নবিশ। তিনি বলেন, ‘বিজেপি কোনওদিন কংগ্রেস বা মিমের সঙ্গে জোট বাঁধতে পারে না। এই ধরনের জোট গ্রহণযোগ্য নয়। যদি কোনও স্থানীয় বিজেপি নেতা এই কাজ করে থাকেন, তাহলে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সরব হয়েছে শিবসেনাও। উদ্ধবপন্থী শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউতের কটাক্ষ, আসলে বিজেপি সুযোগ সন্ধানী। ক্ষমতা ধরে রাখতে এই দলটি যে কারও সঙ্গে জোট বাঁধতে পারে। শিবসেনা বিধায়ক বালাজি কিনিকারের মন্তব্য, জোটধর্ম লঙ্ঘন করেছে বিজেপি। বিজেপি কংগ্রেস-মুক্ত ভারতের কথা বলে। অথচ ক্ষমতার লোভে তাদের সঙ্গেই জোট বাঁধে।