• তীব্র কুয়াশার জন্য ট্রেন লেট, বুক করা খাবার পেতে সমস্যায় যাত্রীরা
    বর্তমান | ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: তীব্র কুয়াশার দাপটে প্রধানত উত্তর ভারতগামী মেল, এক্সপ্রেস ট্রেনগুলির মাত্রাছাড়া দেরিতে চলার ঘটনা লেগেই রয়েছে। তা নিয়ে প্রায় নিত্যদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ রেল যাত্রীরা। এবার এর সঙ্গেই যুক্ত হয়েছে নতুন এক ‘উপসর্গ’। দূরপাল্লার মেল, এক্সপ্রেস ট্রেন লেটে আগে থেকে বুকিং করে রাখা খাবার পেতে রীতিমতো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন যাত্রীদের একটি বড় অংশ। হয়তো রাতের ট্রেন ঢুকছে ভোরে। কিংবা দিনের বেলায় যে ট্রেনে ওঠার কথা, বিলম্বের কারণে সেই ট্রেনে উঠতে হচ্ছে দুপুরে অথবা রাতে। এর ফলে ‘স্কিপ’ হয়ে যাচ্ছে ডিনার, ব্রেকফাস্ট কিংবা লাঞ্চ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের কেটারিং চার্জ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থাও নেই রেলের। অভিযোগ, কেটারিং চার্জ দেওয়ার পরেও শুধুমাত্র ট্রেন লেটের কারণে নিজেদের বুকিংয়ের খাবার খেতে পারছেন না যাত্রীরা। পরিবর্তে ভুক্তভোগী রেল যাত্রীদের হয় সকলের মতোই ফ্রিয়ের খিচুড়ি খেতে হচ্ছে, অথবা আবারও গ্যাঁটের কড়ি খসিয়ে স্টেশন থেকে কিংবা ট্রেনেই অন-বোর্ড খাবার কিনে নিতে হচ্ছে। 

    কোটি কোটি টাকায় ফগ ডিভাইস কিনেও যেমন ট্রেন লেটের সমাধান বাতলাতে ব্যর্থ হচ্ছে রেলমন্ত্রক। তেমনই এহেন সমস্যারও কোনও স্থায়ী সুরাহার খোঁজ দিতে পারছে না রেল বোর্ড। যেকোনও সমস্যায় তারা শুধু যাত্রীদের অন-বোর্ড রেল কর্মীদের কাছে অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দিয়েই ক্ষান্ত হচ্ছেন। রাজধানী, শতাব্দী, দুরন্ত কিংবা বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের মতো ট্রেনগুলিতে টিকিটের মূল্যের সঙ্গেই কেটারিং চার্জ ধরা থাকে। টিকিট বুকিংয়ের সময়ই রেল যাত্রীরা ‘ভেজ’ অথবা ‘নন ভেজে’র মতো খাবারের বিকল্প বেছে নেন। তবে খাবার নেবেন কি না, তা সম্পূর্ণভাবেই যাত্রীদের সিদ্ধান্ত। খাবারের বিকল্প না বাছলে স্বাভাবিকভাবেই টিকিটের মূল্যে কেটারিং চার্জ ধার্য হয় না। তবে অধিকাংশ রেল যাত্রীই এহেন বিকল্প বেছে নেন। অভিযোগ, ট্রেন লেটের কারণে সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাঁদেরই। 

    যেমন গত ৩০ ডিসেম্বর হাওড়া রাজধানী এক্সপ্রেসে কানপুর সেন্ট্রাল থেকে কলকাতায় ফেরার টিকিট কেটেছিল একটি বাঙালি পরিবার। কানপুর সেন্ট্রালে ট্রেনের নির্ধারিত সময় ছিল রাত ৯টা ৩৭ মিনিটে। ওই পরিবার খাবারের বিকল্প বেছেছিলেন। কারণ রাত সাড়ে ৯টায় ট্রেনে উঠবেন এবং ডিনার করেই শুয়ে পড়বেন। পরদিন সকাল সকাল পৌঁছে যাবেন হাওড়ায়। কিন্তু কানপুর সেন্ট্রালে ছ’ঘণ্টা লেটে সেই ট্রেন এসেছে পরদিন ভোর ৩টে ১৫ মিনিটে। হাওড়ায় ঢুকেছে সবমিলিয়ে ন’ঘণ্টা লেটে। রাতে যেহেতু ট্রেন কানপুরে আসেইনি, তাই বুকিং করা খাবারও পাননি ওই যাত্রীরা। পরিবর্তে পরদিন দুপুরে সকলের মতোই ফ্রিয়ের খিচুড়ি খেতে হয়েছে তাঁদের। পাশাপাশি আলাদা করে খাবারও কিনতে হয়েছে বাড়তি টাকা খরচ করে। নন-ভেজ খাবার বুকিংয়ে ওই যাত্রীদের কেটারিং চার্জ দিতে হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা। অর্থাৎ, তার পুরোটাই জলে! রেল যাত্রীদের একটি বড় অংশের অভিযোগ, এক্ষেত্রে ট্রেনের টিটিই কিংবা অন-বোর্ড রেল কর্মীদের কেউই সেভাবে কোনও সাহায্য করতে পারছেন না।  ফাইল চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)