• ভোগ্যপণ্য বা গাড়ি বিক্রি, ক্রয় ক্ষমতায় শহরকে পিছনে ফেলেছে গ্রামীণ ভারত
    বর্তমান | ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভোগ্যপণ্য কেনার প্রবণতা বেড়ে গিয়েছে গ্রামীণ এলাকা এবং ক্ষুদ্র  মফস্‌সল ও আধা মফস্‌সলের। ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত যা হিসাব পাওয়া যাচ্ছে, তাতে ভোগ্যপণ্য, গাড়ি, টু-হুইলার কেনাবেচার নিরিখে গোটা দেশের শহরাঞ্চলকে পিছনে ফেলে দিয়েছে গ্রামীণ ভারত। বণিকসভাগুলির কাছে বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠনের পাঠানো পরিসংখ্যান ও রিপোর্ট এই ছবিই স্পষ্ট করছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় ফাস্ট মুভিং কনজিউমার গুডসের (এফএনসিজি) ক্রয়-বিক্রয় যে কোনও অর্থনীতির অন্যতম নির্ণায়ক শক্তি। বাণিজ্য সংগঠন তো বটেই, নিয়েলসনের মতো সমীক্ষক সংস্থাও জানিয়েছে, চলতি আর্থিক বছরে আগস্ট থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ভোগ্য‌পণ্যের চাহিদা শহরে যেখানে বেড়েছে ২.৮ শতাংশ, সেখানে গ্রামাঞ্চলে বৃদ্ধি পেয়েছে ৬ শতাংশ। আর এই কেনাকাটার ফলে গ্রাম-মফস্‌সলে আর্থিক লেনদেন বেড়েছে ৫.৭ শতাংশ। 

    নুডলস, সাবান, টুথপেস্ট, বিস্কুট, ডিটারজেন্ট, চকোলেটের মতো পণ্য বিক্রিই শুধু নয়, সবথেকে বিস্ময়কর হল, গ্রামীণ ভারত অথবা মফস্‌সলে এখন ডিশ ওয়াশার বিক্রি হওয়া শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে লক্ষ করা যাচ্ছে, বড় আকারের রেফ্রিজারেটরের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। গ্রামাঞ্চলে ১৬৫ থেকে ২১০ লিটারের বেশি ক্যাপাসিটির ফ্রিজই এতদিন বিক্রি হয়ে এসেছে। বড় আলমারির মতো বহরের ফ্রিজ সাধারণত শহরাঞ্চলেই বেশি চলে। এবার দেখা যাচ্ছে ব্যতিক্রম। বিভিন্ন রাজ্যের গ্রামাঞ্চল ও মফস্‌সলের স্টকিস্ট ও ডিস্ট্রিবিউটারদের মধ্যে বাড়ছে বড় মাপের ফ্রিজের চাহিদা। সমীক্ষায় জানা যাচ্ছে, গ্রামীণ, মফস্‌সল এবং সি-ডি গ্রেড শহরের ক্ষেত্রে সাধারণ গৃহস্থের মধ্যে মাসকাবারি ওষুধ, বিস্কুট, সাবান অথবা মুদিখানার পণ্য কেনার প্রবণতা শহরের তুলনায় কম ছিল। ২০২৫ সালে লক্ষ করা যাচ্ছে, গ্রাম-মফস্‌সল এলাকাতেও একসঙ্গে বেশি পরিমাণে পণ্য কিনে ঘরে রাখার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। 

    বণিকসভাগুলি বলছে, দেশে ‘শহর যে বৃদ্ধি পাচ্ছে’ তাই নয়, শহুরে চরিত্রও মফস্‌সল ও গ্রামাঞ্চলকে গ্রাস করছে। মঙ্গলবার ফেডারেশন অব অটোমোবাইল ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশিত রিপোর্ট তো দাবি করেছে, ২০২৫ সালে যত গাড়ি ও টু-হু‌ইলার বিক্রি হয়েছে, তার মধ্যে শহরে বিক্রি বেড়েছে ৮ শতাংশ। গ্রামীণ এলাকায় এই বৃদ্ধিই ১২ শতাংশ। ২০২৪ সালে মোট গাড়ি বিক্রি হয়েছিল ৪১ লক্ষ। আর ২০২৫ সালে ৪৪ লক্ষ। এর মধ্যে বিক্রি-বৃদ্ধির অবদান গ্রামের। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের ক্রয়-বিক্রয় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ গ্রামীণ এলাকায়। কারণ, ফসল কাটা ও বিক্রয়ের মরশুম। সেই মরশুমের বিক্রি দু’বছরের মধ্যে সবথেকে বেশি। গ্রামীণ মানুষ টু-হুইলার বরাবরই বেশি কিনেছেন পরিবহণ সমস্যার কারণে। কিন্তু ২০২৫ সালে সেই বিক্রি অনেক বেড়েছে। 

    গ্রামীণ ক্রয়-বিক্রয় হল ভারতীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড। কারণ, ভারতের সিংহভাগই গ্রামীণ এলাকা। বস্তুত সে জন্যই ইউপিএ সরকারের আমলে ১০০ দিনের কাজের গ্যারান্টি তৈরি হয়েছিল গ্রামীণ রোজগার নিশ্চিত ও স্থিতিশীল রাখতে। রোজগার থাকলে কেনাকাটা হবে। প্রশ্ন উঠছে ২০২৬ সাল নিয়ে। গ্রামাঞ্চল যে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে অর্থনীতিকে বৃদ্ধির হার উপহার দিয়ছে, ১০০ দিনের কাজের নতুন আইন সেই প্রবণতাকে ধাক্কা দেবে না তো? আপাতত সেটাই উদ্বেগ বাণিজ্য মহলের কাছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)