• সুকান্তর সংসদীয় এলাকায় দাঁড়িয়ে বিজেপিকে ‘ইতিহাস’ করে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
    বর্তমান | ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • রাহুল চক্রবর্তী, ইটাহার: বিজেপি সাংসদের সংসদীয় এলাকায় দাঁড়িয়েই ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া শিবিরকে ‘ইতিহাস’ করে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তৃণমূলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দৃপ্ত কণ্ঠে আওয়াজ তুললেন, ‘যত ক্ষমতা আছে, বিজেপি প্রয়োগ করুক। বাংলার মানুষ আছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই।’ ‘আবার জিতবে বাংলা’ শীর্ষক কর্মসূচিতে বুধবার উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক। দিনভর ছিল তাঁর ঠাসা কর্মসূচি। এসআইআর আতঙ্কে মৃত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, মহারাষ্ট্রে গিয়ে হেনস্তার শিকার হওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, তারপর রোড শো ও সভা ছিল অভিষেকের। যে তিনটি জায়গায় অভিষেকের কর্মসূচি ছিল এদিন, সেই বালুরঘাট, তপন এবং ইটাহার ঘটনাচক্রে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের সংসদীয় এলাকার মধ্যে পড়ে। সেখানে দাঁড়িয়ে সুকান্তকে ‘হাফপ্যান্ট মন্ত্রী’ বলে কটাক্ষ ছুড়ে দেন অভিষেক। দুই জেলা মিলিয়ে ১৫টি বিধানসভা আসনে জয়ের টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন তিনি। তাৎপর্যপূর্ণ হল, বাংলার মানুষের স্বার্থে কাজ করতে না পারার জন্য সুকান্ত মজুমদারকে প্রাক্তন সাংসদ করে দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তৃণমূলের সেনাপতি। 

    অভিষেকের এদিনের কর্মসূচির যাবতীয় আলো শুষে নিয়েছিল ইটাহারের রোড শো। ২০২৩ সালের ১ মে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে এখানেই রোড শো করেছিলেন অভিষেক। এদিনের জনসমাগম গত বারকে ছাপিয়ে গিয়েছে বলেই দাবি তৃণমূল সেনাপতির। মানুষের বিপুল উচ্ছ্বাস ও সমর্থনকে পুঁজি করেই জাতীয় সড়কের উপর দাঁড়িয়ে অভিষেক বিজেপিকে চড়া সুরে আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যের আগাগোড়া ছিল এসআইআর নিয়ে বিজেপিকে তুলোধোনা। বাংলা ভাষাভাষীদের কখনও বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া, কখনও আবার এসআইআরের নাম করে কিছু মানুষকে বাংলাদেশি বলে চাপে রাখা, ভোটার তালিকা থেকে বৈধ ভোটার বাদ দেওয়ার চক্রান্ত ইত্যাদি ইস্যুতে সোচ্চার হয়েছেন অভিষেক। এই প্রেক্ষাপটেই অভিষেকের ঘোষণা, ‘যারা আমাদের সরাতে চেয়েছে, তাদের ইতিহাসে পরিণত করতে হবে।

    গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বিজেপি ইতিহাস হয়ে যাবে।’ আর তা করার জন্য রাজ্যের ২৮৪টি আসনের মধ্যে ২৫০টি আসনের জয়ের লক্ষ্যমাত্রাও ঘোষণা করেছেন তিনি। অভিষেক আরও বলেন, ‘বিজেপির হাতে ইডি, সিবিআই, ইনকাম ট্যাক্স সহ সব কেন্দ্রীয় এজেন্সি রয়েছে। কিন্তু ওদের সঙ্গে মানুষের সমর্থন নেই। বাংলার ১০ কোটি মানুষের সমর্থন রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে।’

    কেন্দ্রীয় বঞ্চনা, বাংলা এবং বাঙালির সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ, পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্তা, মতুয়া ও রাজবংশীদের অপমানের জবাব বিজেপি আগামী বিধানসভা ভোটেই পাবে বলে দাবি করেছেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘বিজেপিকে বুথ থেকে উৎখাত করতে হবে। লড়াই এবার জোরদার। ২৬-এ জয়ের খুঁটিপুজো করলাম ইটাহারে।’ ছবি: চিরঞ্জীব দাস
  • Link to this news (বর্তমান)