সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার ও ফালাকাটা: ভোটার ৫০৯ জন। তারমধ্যে এসআইআরের শুনানিতেই ডাক পেয়েছেন ৪৭৬ জন। অথচ প্রত্যেকেরই ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল। এই ‘ভূতুড়ে কাণ্ড’ ঘটেছে ফালাকাটা পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ২০০ নম্বর বুথে।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, তাদের দলকে ভোটে হারাতে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন চক্রান্ত করে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। ওই বুথের ভোটার তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক শুভব্রত দে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় শুভব্রতবাবুরও নাম আছে। তিনিও শুনানিতে ডাক পেয়েছেন। একসঙ্গে একটি বুথের সিংহভাগ ভোটার কীভাবে ডাক পেতে পারেন তা নিয়ে বিস্মিত অনেকেই।
শুভব্রতবাবু বলেন, এই বুথটি আমাদের দলের গড়। সেই জন্যই বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন চক্রান্ত করে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এমন কি ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকার পরেও আমাকে শুনানিতে ডেকেছে। আমরা অবশ্যই শুনানিতে যাব। শুনানিতে ডাক পাওয়া একজন বৈধ ভোটারের নামও যদি বাদ যায়, তাহলে কিন্তু আমরা কাউকে ছাড়ব না। ফালাকাটার বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মন অবশ্য বলেন, এসআইআর বিজেপি করছে না। নির্বাচন কমিশন করছে। ওই বুথের ঘটনাটি শুনেছি। আমরা নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কাছে জানতে চাইব কেন এই ঘটনা ঘটল ওই বুথে। শুনানিতে ডাক পাওয়া ওই বুথের বহু ভোটার বাইরের রাজ্যে কাজ করেন। কয়েকজন বিদেশেও আছেন। প্রশ্ন উঠেছে, অল্প সময়ের মধ্যে তাঁরা কিভাবে শুনানিতে আসবেন? অনেকে আবার প্রশ্ন তুলছেন একটি বুথের একসঙ্গে এতজন ভোটার কিভাবে শুনানিতে ডাক পান?
যদিও সংশ্লিষ্ট বুথের বিএলও বাসন্তী পাল বলেন, বিষয়টি ঠিক আমিও বুঝতে পারছি না। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল। অন্যদিকে, আলিপুরদুয়ারের মহকুমা শাসক দেবব্রত রায় বলেন, ফালাকাটা বিধানসভার ওই বুথের ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে। নির্বাচনী ভাষায় এটাকে বলা হয় ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি।’ ভয়ের কিছু নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।