নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: পদযাত্রা থেকে পথসভা। চায়ের দোকানের আড্ডা থেকে পাড়া বৈঠক। সবশেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও জনসভা। মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ‘পদ্ম ফুল’ উচ্ছেদ করতে ওয়ার্মআপের এমন নীল-নকশা প্রস্তুত করেছে জোড়াফুল শিবির। তারা এজন্য তিনটি কমিটি প্রস্তুত করেছে। ইতিমধ্যে তারা কর্মিসভা করেছে। এনিয়ে দুশ্চিন্তায় পদ্ম শিবিরের একাংশ। তারাও গা ঘামানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। উভয়পক্ষের এমন পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় রাজনীতির ময়দান সরগরম।
মাটিগাড়া ও নকশালবাড়ি ব্লক দু’টি নিয়ে গঠিত মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র। এসসি সংরক্ষিত এই কেন্দ্রের অধীনে মাটিগাড়ার পাঁচটি এবং নকশালবাড়ি ছ’টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। সবগুলি পঞ্চায়েত, দু’টি পঞ্চায়েত সমিতি এবং মহকুমা পরিষদের চারটি আসন তৃণমূলের কব্জায়। এমন প্রেক্ষাপটে গত বিধানসভা ও লোকসভা ভোটের হারের বদলা নিতে ময়দানে ঝাঁপিয়েছে জোড়াফুল শিবির। তারা এবার উন্নয়নের পাঁচালি নিয়ে ওয়ার্মআপ শুরু করবে। এজন্য রবিবার তারা নকশালবাড়িতে একটি কর্মিসভা করেছে। সভায় বিধানসভা কেন্দ্রের কো-অর্ডিনেটার তথা শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষ, কোর কমিটির সদস্য পাপিয়া ঘোষ, প্রাক্তন বিধায়ক শংকর মালাকার সহ গ্রাম পঞ্চায়েতে, পঞ্চায়েত সমিতি ও মহকুমা পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা হাজির ছিলেন।
দলীয় সূত্রের খবর, উন্নয়নের পাঁচালি নিয়ে কর্মসূচি করতে তিনটি কমিটি গড়া হয়েছে। প্রতি কমিটিতে সদস্য সংখ্যা ১১ জন করে। সংশ্লিষ্ট তিনটি কমিটি বিধানসভা কেন্দ্রের তিনটি জায়গায় পদযাত্রা, সাইকেল মিছিল, পথসভা, পাড়া বৈঠক, চায়ের দোকানের আড্ডা প্রভৃতি কর্মসূচি রূপায়িত করবে। বিধানসভা কেন্দ্রের তিনটি জায়গা জনসভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।
মাটিগাড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি সুশান্ত ঘোষ বলেন, গত বিধানসভা ও লোকসভা ভোটের বদলা এবারের নির্বাচনে নেওয়া হবে। তাই বিজেপিকে এখানকার মাটি থেকে উচ্ছেদ করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা ময়দানে নামছি। বিধানসভা কেন্দ্রের কো-অর্ডিনেটার তথা মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি বলেন, পদ্ম শিবিরের বিরুদ্ধে দৈনিক কর্মসূচি চলছে। এবার উন্নয়নের পাঁচালি কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ময়দান দুরমুশ করা হবে। এর রূপরেখা প্রস্তুত করা হয়েছে।
এদিকে, বিগত নির্বাচনের মতো এখনও হাওয়া সেভাবে তুলতে পারেনি পদ্ম শিবির। তাদের একাংশের ধারণা, তৃণমূল যেভাবে তেড়েফুঁড়ে নামছে, তাতে এবারের লড়াই কিছুটা হলেও কঠিন হবে। স্থানীয় বিধায়ক বিজেপির আনন্দময় বর্মন অবশ্য বলেন, ছাব্বিশের নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। নিয়মিত মিছিল, পথসভা ও মণ্ডলস্তরে বৈঠক হচ্ছে। কাজেই তৃণমূলকে নিয়ে ভাবছি না। ওরা দিবাস্বপ্ন দেখছে। এবারও তা পূরণ হবে না।