• টার্গেট ১১-০, অভিষেকের নির্দেশ পেয়ে ময়দানে জেলার নেতা-কর্মীরা
    বর্তমান | ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, রামপুরহাট: আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বীরভূমে ফলাফল তৃণমূলের পক্ষে ১১-০ করতে ময়দানে নেমে পড়লেন শাসকদলের নেতাকর্মীরা। বুথ ভিত্তিক বাড়ি ভাগ করে ‘ম্যান টু ম্যান’ যোগাযোগ শুরু করে দিলেন তাঁরা। দলের জেলা চেয়ারপার্সন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, উন্নয়নের পাঁচালি কর্মসূচিতে এলাকার বিধায়কদের প্রতিটি বুথকে টাচ করতে বলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই নির্দেশ বিধায়কের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। সেটাও পুরোদমে শুরু হয়ে যাবে। 

    মঙ্গলবার রামপুরহাটে বিধানসভা ভোটের লড়াইয়ের কৌশল বাতলে দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বারবার বলেছেন, ছাব্বিশের লড়াই বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য রক্ষার লড়াই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতলে বাংলার ১০ কোটি মানুষ শান্তিতে থাকবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ থাকবে। প্রতিটি বুথে বিজেপিকে জবাব দিতে এখন থেকেই মাঠে নেমে পড়তে বলেন। তিনি বলেছেন, বীরভূমের ৩,৬০০ বুথ থেকে বাংলা বিরোধীদের ভোকাট্টা করতে হবে। একটা বুথেও যেন ওরা মাথা তুলতে না পারে। সবাই তৈরি থাকুন। এমনভাবে লড়াই করতে হবে যাতে বিজেপিকে এক ছটাক জমিও ছাড়া না হয়। লোকসভার ফলাফলে যে বুথে তৃণমূলের ৫০ ভোটে লিড ছিল, সেখানে এবার লিড ৫১ করতে হবে। যে বুথে ১০০ ছিল, সেখানে ১১০ করতে হবে। যেখানে ৩০০ ছিল, সেখানে ৪০০ করতে হবে। বিজেপির পাপের ঘরা পূর্ণ, আগামীদিন বীরভূমের মাটিতে বিজেপি শূন্য। এই শপথ নিতে হবে। এবার বীরভূমে ১১-০ করে দিতে হবে। সেই সঙ্গে এসআইআরে যাঁদের নাম বাদ যাবে, তাঁদের ‘ফর্ম সিক্স’ পূরণ করে বিএলওকে জমা দিতে বলেছেন। সেক্ষেত্রে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তাঁদের সহযোগিতা করবে।

    দলের সেকেন্ড ইন কমান্ডের সেই নির্দেশ মতোই মাঠে নেমে পড়েছেন তৃণমূলের কর্মীরা। আশিসবাবু বলেন, বুথে বুথে নতুন ভোটারদের নাম নির্বাচন কমিশনের তালিকায় তোলার জন্য প্রতিটি ব্লক সভাপতিকে বলে দেওয়া হয়েছে। কারও নাম বাদ গেলে ফর্ম সিক্স পূরণে তাঁকে সহযোগিতা করতে হবে। সেই সঙ্গে এদিন থেকে বুথ ভিত্তিক ১০ থেকে ১২টি করে বাড়ি কর্মীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। যাঁরা সেই পরিবারের প্রতিটি সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলবেন। আশিসবাবু বলেন, তারাপীঠে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়ারপার্সন হিসেবে আমাকে বলেছেন, উন্নয়নের পাঁচালি কর্মসূচি ভালোভাবে করতে হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিধায়কদের টিম নিয়ে গিয়ে প্রতিটি বুথ কভার করতে বলা হয়েছে। বুথের প্রতিটি মানুষের কাছে সরকারের ১৫ বছরের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরতে হবে। অভিষেকের সেই নির্দেশও বিধায়কদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। 

    দলের জেলা মুখপাত্র মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, দলনেতার নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। বুথস্তর পর্যন্ত যাতে ফলো হয়, সেটা নিশ্চিত করা হবে। বিজেপি ভোট চাইতে এলে তাদের ১১ বছরের উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড দেখতে চাইবেন সাধারণ মানুষ। বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উদয়শংকর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বালি, পাথর, কয়লা, চাকরি চুরি, স্বাস্থ্য পরিষেবা বেহাল এগুলিই ওদের রিপোর্ট কার্ড। আমাদের রিপোর্ট কার্ড দেখানোর প্রয়োজন নেই। মোদিজির উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সবাই শামিল হয়ে আছেন।
  • Link to this news (বর্তমান)