• নন্দীগ্রামকে পাপমুক্ত করার ডাক তৃণমূলের
    বর্তমান | ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নন্দীগ্রাম: শহিদস্মরণ সভা থেকেই বিধানসভা ভোটের মুখে তৃণমূল-বিজেপি দ্বৈরথে তপ্ত হয়ে উঠল নন্দীগ্রাম। এই মঞ্চ থেকেই নন্দীগ্রামকে ‘পাপমুক্ত’ করার ডাক দিল তৃণমূল। আবার শহিদস্মরণ সভা থেকেই রাজ্যে ‘প্রকৃত পরিবর্তনের’ আওয়াজ তুলে আসন্ন নির্বাচনে লড়াইয়ের আহ্বান জানায় বিজেপিও। আন্দোলনের আঁতুড়ঘরে কেউ কাউকে এক ইঞ্চিও মাটি ছাড়তে নারাজ। আগামী ১৫ জানুয়ারি নন্দীগ্রাম-১ ও ২ ব্লকে দু’জায়গায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ডায়মন্ডহারবার মডেলে সেবাশ্রয় শিবিরের উদ্বোধন করবেন। তার প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে। তারআগে নন্দীগ্রামে যুযুধান দুই দলের তরজা তুঙ্গে। বুধবার ভোরে নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের ভাঙাবেড়্যায় শহিদস্মরণ সভা থেকেই শাসক ও বিরোধী দুই শিবির কার্যত ভোট প্রচারের সূচনা করল বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। তাই, ২০২১ সালের মতো ২০২৬ সালেও বিধানসভা নির্বাচনের রাজ্য রাজনীতির হটস্পট হতে চলেছে নন্দীগ্রাম।

    বুধবার ভোরে ভাঙাবেড়্যায় শহিদবেদির সামনে জড়ো হন তৃণমূল নেতা ঋজু দত্ত, জেলা তৃণমূল সভাপতি সুজিত রায়, দলের জেলা চেয়ারম্যান অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রাক্তন বিধায়ক রণজিৎ মণ্ডল ও তমলুক পুরসভার চেয়ারম্যান চঞ্চল খাঁড়া সহ নন্দীগ্রাম-১ ব্লক তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্যরাও ছিলেন। কনকনে ঠান্ডা সত্ত্বেও ভোরে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা স্মরণসভায় হাজির হন। উপস্থিত ছিলেন শহিদ পরিবারের সদস্যরাও। আগামী ১৫ জানুয়ারি নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় শিবিরের প্রস্তুতির কাজে কলকাতা থেকে ঋজু দত্তকে নন্দীগ্রামে পাঠানো হয়েছে। তিনি এখানে থেকে ওই কাজে তদারকি করছেন। এদিনের সভায় তিনিই প্রধান বক্তা ছিলেন।

    ২০০৭ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরে খেজুরি থেকে হার্মাদবাহিনী নন্দীগ্রামে ঢুকে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। তৎকালীন সোনাচূড়ার ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির নেতা নিশিকান্ত মণ্ডলের নেতৃত্বের গ্রামবাসীরা ভাঙাবেড়্যায় জড়ো হন। হার্মাদবাহিনীর গুলিতে ভরত মণ্ডল, বিশ্বজিৎ মণ্ডল ও শেখ সেলিম মারা যান। তারপর থেকে প্রতিবছর ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির(বিইউপিসি) ব্যানারে ৭ জানুয়ারি শহিদস্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২০ সালের পর থেকেই একই ব্যানারে তৃণমূল ও বিজেপির পক্ষ থেকে আলাদাভাবে কর্মসূচি হয়।

    এদিন ভোটে ভাঙাবেড়্যা ঩ব্রিজ লাগোয়া শহিদবেদির সামনে শহিদস্মরণ সভা করে তৃণমূল। দলের ঋজু দত্ত বলেন, ভোর ৪টেয় কনকনে ঠান্ডা ও কুয়াশা উপেক্ষা করে সভায় এমন স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া হবে ভাবতেও পারিনি। এই আবেগকে ধরে রাখতে হবে। নন্দীগ্রামের শহিদের রক্তের বিনিময়ে বাংলা ৩৪ বছরের অপশাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে। এই রাজ্য দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছে। মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছে। তাহলে নন্দীগ্রাম স্বাধীন হবে না কেন? নন্দীগ্রামকে পাপমুক্ত করার জন্য আপনাদের শপথ নিতে হবে। 

    এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের ওই সভার পর বিজেপির পক্ষ থেকে ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে ভাঙাবেড়্যা শহিদ মিনারে শহিদস্মরণ সভা হয়। সেই মঞ্চ থেকেও তৃণমূলের উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক আক্রমণ ধেয়ে আসে। বিজেপির দাবি, ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদল হলেও আসল পরিবর্তন আসেনি। কারণ, এরাজ্যের প্রচুর যুবক নিজেদের বাবা-মা, স্ত্রী, পুত্র ও পরিবার ছেড়ে কাজের খোঁজে গুজরাত, মহারাষ্ট্র সহ দেশের নানাপ্রান্তে চলে গিয়েছেন। এরাজ্যে কাজের সুযোগ নেই। তাই ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে আসল পরিবর্তন আনতে হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)