সংবাদদাতা, ডোমকল: স্কুল ফি নিয়ে ক্রমেই অভিযোগের পাহাড় জমছে ডোমকলে। কোথাও ৩০০ টাকা, কোথাও ৩৫০ টাকা, আবার কোথাও ৪০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এমনকি, কোনও কোনও স্কুলে ভর্তি ফি বাবদ আদায় করা হচ্ছে ৫০০ টাকা পর্যন্ত! সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একাধিক স্কুল দু’টি করে রশিদ ছাপাচ্ছে। একটিতে ভর্তি ফি ২৪০ টাকা। অন্যটিতে বিভিন্ন ফি বাবদ নেওয়া হচ্ছে বাড়তি টাকা।
সরকারি নিয়মানুযায়ী, সরকার পোষিত স্কুলগুলিতে পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি ফি নির্ধারিত ২৪০ টাকা। এর থেকে এক টাকাও বেশি নেওয়া যাবে না। তবে নবম শ্রেণির ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন ফি আলাদাভাবে নেওয়া হয়। বাস্তবে এই নিয়ম মানছে না ডোমকল মহকুমার একাধিক স্কুল।
জলঙ্গির টিকরবাড়িয়া কেএন হাইস্কুল। অভিযোগ, ওই স্কুলে প্রতি বছরই বাড়তি ভর্তি ফি নেওয়া হয়। এবারও তাই নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবাদে দিন কয়েক আগে স্কুলের সামনে রাস্তা অবরোধ করা হয়। তারপরও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ফি নিতে নারাজ স্কুল কর্তৃপক্ষ। এমনটাই অভিযোগ অভিভাবকদের।
জানা গিয়েছে, ওই স্কুলে ভর্তি ও ডেভেলপমেন্ট ফি মিলিয়ে মোট ভর্তি ফি ২৪০ টাকা। কিন্তু ‘অন্যান্য ফি’ বাবদ নেওয়া হচ্ছে আরও ২৬০ টাকা। পড়ুয়াদের আইডেন্টিটি কার্ড তৈরির জন্য নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ২০ টাকা। সব মিলিয়ে ভর্তির খরচ দাঁড়াচ্ছে ৫২০ টাকা। বহুবার বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনও কর্ণপাত করা হয়নি বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।
এক অভিভাবক মেহেবুব শাহ আলম বুধবার বলছিলেন, ‘প্রতিবছর আশপাশের স্কুলগুলির তুলনায় এই স্কুলে অনেক বেশি ভর্তি ফি নেওয়া হয়। গত বছর পর্যন্ত অন্তত কিছু অতিথি শিক্ষক ছিলেন। তাই কিছুটা বাড়তি ফি নেওয়ার বিষয়টি মানা যেত। কিন্তু এ বছর তাঁরা নেই। তারপরও ফি কমানো হয়নি। সাধারণ মানুষের পক্ষে সরকারি স্কুলে এইভাবে এত টাকা দিয়ে ভর্তি করা খুবই কষ্টকর। সরকারি নিয়মে যেখানে স্পষ্ট বলা আছে, সব মিলিয়ে ২৪০ টাকা নেওয়া যাবে। সেখানে প্রতিবছর সেই নির্দেশ অমান্য করা হচ্ছে।’
একই ছবি ধরা পড়েছে সাগরপাড়ার কাজীপাড়া হাইস্কুলেও। অভিযোগ, ভর্তির সময় দু’টি করে রশিদ দেওয়া হচ্ছে। একটিতে ভর্তি ফি হিসেবে ২৪০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। অপর রশিদে মিসলেনিয়াস ফি-র নামে নেওয়া হচ্ছে আরও ৯৫ টাকা। স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌস ওয়াহিদ সেলিম বলেন, ‘আমরা মানছি, কিছুটা বেশি ফি নিতে হচ্ছে। স্কুলে টিচিং ও নন-টিচিং মিলিয়ে সাতজন কর্মীকে নিজেদের উদ্যোগে নিয়োগ করতে হয়েছে। তাঁদের বেতন দিতে হয়। এছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও আনুষাঙ্গিক খরচ রয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই কিছুটা অতিরিক্ত টাকা নিতে হচ্ছে। আমরাও চাই না, কিন্তু উপায় নেই।’
ডোমকলের ধুলাউড়ির রবীন্দ্র বিদ্যানিকেতন হাইস্কুলেও ভর্তি ফি ছাড়াও ইলেকট্রিক ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, আইডেন্টিটি কার্ড, ইলেকট্রিক ফি ও অন্যান্য ফি মিলিয়ে ভর্তির মোট খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৩৭০ টাকা। প্রধান শিক্ষক সুকুমার সরকার বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে কম্পোজিট গ্রান্ট অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই টাকাও অনিয়মিতভাবে আসে। বিদ্যুৎ বিল ও সাফাইকর্মীদের বেতন দিতে গিয়ে আমরা চরম সমস্যায় পড়ছি। স্কুল সচল রাখতে বাধ্য হয়েই অভিভাবকদের বুঝিয়ে কিছুটা বাড়তি টাকা নিতে হচ্ছে। আমরা নিরুপায়।’
মুর্শিদাবাদের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক জয়ন্ত হালদার বলেন, ‘স্কুলগুলিকে ইতিমধ্যেই পর্ষদ নির্ধারিত ফি নেওয়ার নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। এরপরেও যদি এই ধরনের অভিযোগ আসে, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’