নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: প্রয়োজনের তুলনায় বেডের সংখ্যা অনেকটাই কম। তার জেরে দেবেন মাহাত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সদর ক্যাম্পাসে গিয়ে চিকিৎসা পরিষেবা পেতে রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অনেককেই বিপাকে পড়তে হচ্ছে। অভিযোগ, পর্যাপ্ত বেড না মেলায় রোগীদের একাংশের মেঝেতেই চিকিৎসা চলছে। বুধবার সদর ক্যাম্পাসে গিয়ে সেই দৃশ্য দেখা গিয়েছে। তবে, এই ঘটনা একদিন বা এক সপ্তাহের নয়, হাসপাতালে ঢুঁ মারলে নিত্যদিন এই ছবি দেখা যাবে। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও অবগত রয়েছে। রোগীর পরিবারের সদস্যদের কথায়, শীতের মরশুমে এভাবে মেঝেয় শুয়ে থাকার জেরে তাঁদের দুর্ভোগের অন্ত নেই। তাঁদের দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বেড সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন।
এমএসভিপি সুকমল বিষই বলেন, অনুমোদনের চেয়েও বেশি সংখ্যক বেড রয়েছে। তবে, নিত্যদিন দূর-দূরান্ত থেকে বহু রোগী আসেন। পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ড থেকেও রোগীরা চিকিৎসা পরিষেবা পেতে এখানে আসেন। হাসপাতালের সদর ক্যাম্পাসে দিনে গড়ে ৮০০ রোগী চিকিৎসাধীন থাকেন। ফলস্বরূপ অনেকেই বেড পান না। হাতুয়াড়া ক্যাম্পাসে বিভিন্ন বিভাগ স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সমস্যা মিটবে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সদর ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ওয়ার্ডের জন্য মোট ৫৬০টি বেডের অনুমোদন রয়েছে। তবে, প্রতিদিন চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বেডের সংখ্যা বাড়িয়েছে। বর্তমানে সদর ক্যাম্পাসে মোট ৬৮০টি বেড রয়েছে। কিন্তু, চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা বেডের তুলনায় অনেকটাই বেশি। সদর ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ওয়ার্ডের জন্য অনুমোদনের তুলনায় মোট ১২০টি বেড বাড়ানো হলেও আখেরে তেমন কোনও লাভ হয়নি। বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাইরে অর্থাৎ করিডরের মেঝেতে রোগীদের চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুয়ে থাকতে দেখা যায়। কনকনে শীতে তাঁদের যথেষ্টই বেগ পেতে হচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন, নিরুপায় হয়ে রোগীদের মেঝেতে শুইয়ে রাখতে হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমানে রোগীদের চাপ কিছুটা কম রয়েছে। বছরের অন্যান্য সময় চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা এক হাজার ছাপিয়ে যায়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, চাপ বেশি থাকলে অনেক সময় রোগীদের একই বেডে দু’জনকে রাখা হয়। সেইসঙ্গে রোগীদের মেঝেতেও ঠাঁই নিতে হয়।
বরাবাজারের বাসিন্দা সুমন্ত মাহাত পেটে ব্যথা নিয়ে গত তিনদিন আগে সদর ক্যাম্পাসে ভর্তি হয়েছেন। তাঁর কাকা মানিক মাহাত বলেন, শীতের মরশুমে ভাইপোকে খুব কষ্ট পেতে হচ্ছে। বেড না পাওয়ায় মেঝেতেই তিনদিন কেটে গেল। পুরুলিয়া-২ ব্লকের বাসিন্দা চন্দনা মাহাতর স্বামী দুর্ঘটনায় জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চন্দনাদেবী বলেন, বেড না মেলায় মেঝেতে ঠাঁই হয়েছে। সেখানেই স্বামীর চিকিৎসা চলছে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত বেডের সংখ্যা বাড়ানো উচিত। -নিজস্ব চিত্র