• দু’টি বাসের সংঘর্ষে মা-ছেলে সহ তিনজনের মৃত্যু, জখম ৬
    বর্তমান | ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: বুধবার বিকেলে ধুবুলিয়া থানার বাহাদুরপুর সংলগ্ন এলাকায় মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায় মা-ছেলে সহ তিন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় ছ’জন জখম হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কজনক।। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম রোজিনা খাতুন(২৪) ও তাঁর ছেলে রফিক শেখ(৬)। তাঁদের বাড়ি ধুবুলিয়া থানার সোনডাঙা এলাকায়। আর একজনের পরিচয় জানা যায়নি। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।

    বিষয়টি জানার পর রাজ্য সরকারের তরফে জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার এবং মৃত ও জখমদের পরিবারের পাশের থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। চিকিৎসার ক্ষেত্রে অন্যত্র হস্তান্তরের প্রয়োজন হলে দ্রুত রেফার করতে বলা হয়েছে। সন্ধ্যার দিকে জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত এবং কৃষ্ণনগরের মহকুমা শাসক শারদ্বতী চৌধুরী জখমদের সঙ্গে হাসপাতালে  দেখা করতে আসেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় একটি বেসরকারি বাস কৃষ্ণনগর থেকে মায়াপুরের দিকে যাচ্ছিল। অপর একটি বাস কালীগঞ্জ থেকে কৃষ্ণনগরের উদ্দেশে আসছিল। জাতীয় সড়কের উপর রোড মার্কিংয়ের কাজ শুরু হওয়ায় কৃষ্ণনগরমুখী লেনটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই সময় শুধুমাত্র বহরমপুরমুখী লেন খোলা ছিল। দু’টি বাসেরই গতি ছিল। মুখোমুখি সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় মায়াপুরগামী বাসের চালক ঘোরার চেষ্টা করে। সেই সময় পিছন দিক থেকে কৃষ্ণনগরমুখী বাসটি এসে সজোরে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসের পিছনের অংশ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই পিছনের সিটেই জানালার ধারে বসেছিলেন রোজিনা বিবি ও তাঁর ছেলে রফিক। ঘটনাস্থলেই মা ও ছেলের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ধুবুলিয়া থানার পুলিশ। জখমদের উদ্ধার করে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। 

    মৃত রোজিনা খাতুনের পরিবারের সদস্য তোহির শেখ জানান, রোজিনা তাঁর ছেলেকে নিয়ে চাপড়ায় বাপেরবাড়ি গিয়েছিলেন। বুধবার বিকেলে বাসে করেই তাঁরা সোনডাঙায় বাড়ি ফিরছিলেন। দুর্ঘটনার খবর প্রথমে এলাকাবাসীর কাছ থেকে পাই। পরে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে এসে জানতে পারি, মা ও ছেলে দু’জনেই মারা গিয়েছে। ওঁরা বাসের পিছনের সিটে জানালার ধারে বসেছিল। দুর্ঘটনার পরই তাঁদের মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় মোট তিনজনের মৃত্যু হয়েছে ও ছ’জন জখম হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর বাস দু’টি সরিয়ে যান চালচল স্বাভাবিক করা হয়।  জাতীয় সড়কে রোড মার্কিংয়ের কাজ চলার সময় যান নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
  • Link to this news (বর্তমান)