• মিড-ডে মিলে পড়ুয়াদের পাতে কুকুরে খাওয়া মাংস!
    বর্তমান | ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, ঘাটাল: মিড ডে মিলের মেনুতে ছিল মুরগির ঝোল। সেজন্য পলিথিন দিয়ে ঢাকা কাঁচা মাংস রাখা ছিল। কিন্তু সেই মাংসেরই একাংশ কুকুরে খেয়ে নেয়। এরপর মঙ্গলবার সেই মাংস রান্না করেই পড়ুয়াদের খাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল কেশপুর ব্লকের হিজলি প্রাথমিক স্কুলে। কেন কুকুরে খাওয়া মাংসের অবশিষ্ট অংশ পড়ুয়াদের খাওয়ানো হল, তা নিয়ে কৈফিয়ত চেয়ে বুধবার স্কুলে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকরা। প্রধান শিক্ষিকা কাকলি চৌধুরী অবশ্য অভিযোগটি সরাসরি স্বীকার করেননি। তাঁর সাফাই, মিড ডে মিলে রান্নার জন্য মুরগির মাংস কেটে রাখা ছিল। মাংসের ওপর রাখা একটি  পলিথিন কুকুর মুখে করে নিয়ে যায়, কিন্তু মাংসে মুখ দেয়নি। এমনকী,  রান্না করা সেই মাংসই পড়ুয়াদের সঙ্গে তাঁরাও খেয়েছেন এবং কারও কোনও সমস্যা হয়নি। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ শ্যামপদ পাত্র বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। অভিভাবকদের অভিযোগ প্রমাণিত হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ১৯৭৩  সালে প্রতিষ্ঠিত ওই স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ষাটের কাছাকাছি। দু’জন শিক্ষিকা রয়েছেন। ওদিন স্কুলের মিড ডে মিলের মেনুতে ছিল মাংসের ঝোল। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাংস কিনে এনে রান্নাঘরে রাখা হয়েছিল। অভিভাবকদের অভিযোগ, মাংস কিনে রাখার পর রাঁধুনি ও শিক্ষিকারা যে, যাঁর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় কাঁচা মাংস অসুরক্ষিত অবস্থাতেই থেকে যায়। সেই সুযোগে একটি কুকুর রান্নাঘরে রাখা বালতি থেকে মাংস খেতে শুরু করে। কয়েক মিনিট পর নজরে পড়লে কুকুরটিকে তাড়ানো হয়।

    ওই দৃশ্য কয়েকজন পড়ুয়া দেখে ফেলেছিল। স্কুলের তরফ থেকে তাদের ঘটনাটি চেপে যেতে বলা হলেও তারা বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের সব জানিয়ে দেয়। এরপরই ঘটনা চাউর হতে বুধবার স্কুল খুলতেই অভিভাবকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, শিশুদের খাবার কেন এভাবে অসুরক্ষিত অবস্থায় রাখা হবে? আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিয়েও তাঁরা কৈফিয়ত চান। 

    আমনপুর পঞ্চায়েত সদস্য তথা স্কুল শিক্ষা কমিটির সদস্য সীতা ঘোষের স্বামী অনাথবন্ধু ঘোষ বিক্ষোভের সময় ছিলেন। তিনি বলেন, আমরা অভিভাবকদের অভিযোগ ওড়াচ্ছি না। খাবারের কাছে কুকুর যাওয়ার সুযোগ পাবে কেন, সেটা দেখা হচ্ছে। এদিকে যে পড়ুয়ারা ওই মাংস খেয়েছে, তাদের পরিবারের সদস্যরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। যদিও চিকিৎসকদের মতে, মাংসের স্তূপ থেকে কুকুর খানিকটা খেয়ে থাকলেও সেটি সঠিকভাবে রান্না করা হলে ভয়ের বিশেষ কারণ নেই।-নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)