• ‘দাদন’ নেওয়ায় উৎপাদন ভালো হলেও মধুর দাম পাচ্ছেন না মৌমাছি পালকরা
    বর্তমান | ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, লালবাগ: চলতি বছরে মধুর উৎপাদন ভালো হলেও সেভাবে দাম পাচ্ছেন না মৌমাছি প্রতিপালকরা। অভিযোগ, তাঁদের আর্থিক দুরবস্থার সুযোগ নিয়ে দাদন দিয়ে জলের দরে মধু কিনে নিচ্ছেন একশ্রেণির মহাজন। তারপর সেই মধু কয়েকগুণ বেশি দামে দেশি-বিদেশি কোম্পানির কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে লাভের গুড়ের সবটাই মধ্যস্বত্বভোগীরা পকেটে পুরছে। কনকনে ঠান্ডায় খোলা মাঠে পড়ে থেকেও মৌমাছি পালকদের অভাব ঘুচছে না। পরিবার-পরিজন ছেড়ে প্রায় সারাবছর বাড়ির বাইরে পরিশ্রম করেও লাভ না হওয়ায় তাঁরা হতাশ। মধুর ন্যায্য দাম পেতে তাঁরা সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছেন।

    মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙা, নবগ্রাম, রেজিনগর, রানিতলা, লালগোলা, সাগরদিঘি সহ বিভিন্ন এলাকায় সরষের খেতের আশপাশে ঘাঁটি গেড়েছেন মৌমাছি পালকরা। তাঁরা উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা, নদীয়া, মালদা, হুগলি, দুই দিনাজপুর সহ রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে এসেছেন। সরষের ফুল ধরতে শুরু করতেই বেলডাঙায় এসেছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের মৌমাছি পালকদের একটি দল। অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত এই দলটি বেলডাঙায় ছিল। দলের সদস্য আনারুল হক বলেন, প্রায় ৪০০বাক্স নিয়ে গাড়ি ভাড়া করে প্রথমে বেলডাঙায় এসেছিলাম। সেখান থেকে নবগ্রামে এসেছি। গত দু’বছরের তুলনায় এবার ভালো মধু পাওয়া যাচ্ছে।

    দলের অপর সদস্য রফিক শেখ বলেন, দুই মাসে একটি বাক্স থেকে এক বালতি অর্থাৎ প্রায় ২০কেজি মধু পাওয়া যায়। গত দু’বছর প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছিল। কিন্তু চলতি বছরে মধুর উৎপাদন ভালো হয়েছে। কিন্তু ভালো উৎপাদন হলেও আমরা যে লাভের মুখ দেখব-সেটা জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না।

    নদীয়ার মৌমাছি পালক অভিষেক মিস্ত্রি বলেন, জ্যৈষ্ঠ থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত মধু চাষের অফ সিজন। ওই সময় জলে চিনি গুলে মৌমাছিদের খাওয়াতে হয়। সেইসঙ্গে সংসার চালানোর খরচও রয়েছে। সেকারণে আমরা কোম্পানির এজেন্ট বা স্থানীয় মহাজনদের থেকে দাদন নিতে বাধ্য হই। ফলে উৎপাদিত মধু অনেকসময় কম দামে বিক্রি করতে হয়। মৌমাছি পালকদের দাবি, কৃষিজ ফসলের মতো সরকারিভাবে সহায়কমূল্যে মধু কেনা শুরু হোক। কারণ বর্তমানে তাঁরা বিভিন্ন দেশি-বিদেশি কোম্পানির এজেন্ট, মহাজনদের কাছে জলের দরে মধু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। সরকারিভাবে মধু কেনা হলে তাঁরা ন্যায্য দাম পাবেন।
  • Link to this news (বর্তমান)