সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: হয় তাড়ান। নতুবা জঙ্গলে খাবার দিয়ে আটকে রাখুন। এই দাবিতে বুধবার সংগ্রামী গণমঞ্চের তরফে বন দপ্তরের সোনামুখী রেঞ্জ অফিসারের কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হয়। তাঁরা জানান, গত প্রায় ১ মাসেরও বেশি সময় ধরে সোনামুখীর বিভিন্ন জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় হাতির হানা অব্যাহত রয়েছে। হাতির দল বাসিন্দাদের বাড়ি, ঘর ভেঙেছে। ফসলের ক্ষয়ক্ষতি করছে। তাই হাতিদের হয় তাড়াতে হবে, নতুবা জঙ্গলের মধ্যে খাবার দিয়ে আটকে রাখতে হবে।
বন দপ্তরের সোনামুখীর রেঞ্জার নিলয় রায় বলেন, বুনো হাতি আজকের সমস্যা নয়। ওরা নির্দিষ্ট করিডরেই যাতায়াত করে। তবে কোনও কোনও সময় খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসছে হাতি। বনকর্মীরা সর্বদা নজর রাখছেন। বর্তমানে হাতিগুলিকে সোনামুখী থেকে বেলিয়াতোড় রেঞ্জের দিকে পাঠানো হয়েছে। বাসিন্দাদের দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি পেয়েছি।
সংগ্রামী মঞ্চের সম্পাদক শুভ্রাংশু মুখোপাধ্যায় বলেন, হাতি নিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে আমরা ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছি। আমাদের ১০ দফা দাবির মধ্যে রাজ্য সরকার অনেকগুলি পূরণ করেছে। এখনও চার দফা দাবি রয়েছে। এর মধ্যে হাতি নিয়ে উদ্ভূত সমস্যার স্থায়ী সমাধান, ময়ুরঝর্ণা প্রকল্পের বাস্তবায়ন থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন ধরে থাকা উত্তর বাঁকুড়া থেকে হাতির পালকে অন্যত্র সরানোর দাবি রয়েছে। সর্বোপরি হাতির হানায় ফসলের ক্ষতিপূরণ ঘটনার ১৫ দিনের মধ্যে দিতে হবে প্রশাসনকে। এদিন এসব দাবির ভিত্তিতেই বনকর্তাদের ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত কয়েকমাস ধরে উত্তর বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় প্রায় ৬৫টি হাতি ছিল। সম্প্রতি একাধিক দলে ভাগ হয়ে প্রায় ৫০টি হাতি দলমায় ফিরে গিয়েছে। কিন্তু এখনও প্রায় ১৫টি হাতি বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে বিচ্ছিন্ন ভাবে অবস্থান করছে বাঁকুড়ার জঙ্গলে।
ওই দলেরই তিনটি হাতি গত কয়েদিন ধরে সোনামুখীর মানিকবাজার পঞ্চায়েত এলাকায় আশ্রয় নেয়। এরাই সোমবার রাতে স্থানীয় নারায়ণসুন্দরী গ্রামে তিনটি বাড়ির দেওয়াল ভেঙে ধান খেয়ে নেয়। এছাড়াও একই দিনে দাঁতালগুলি সোনামুখীর পাঁচাল গ্রামে তিনটি দোকানে ভাঙচুর চালায়। -নিজস্ব চিত্র