ঠান্ডায় পশুপাখিদের জন্য বিশেষ পদক্ষেপ গড়চুমুক চিড়িয়াখানায়
বর্তমান | ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: শীতে কাঁপছে গোটা বাংলা। কনকনে ঠান্ডায় জবুথবু সাধারণ মানুষ। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জেলাগুলিতে পারদ আরও নিম্নমুখী হবে। এই ঠান্ডায় মানুষের পাশাপাশি সমস্যায় পড়েছে গড়চুমুক মিনি জু’য়ের পশুপাখিরা। শীতের দাপটে বেকায়দায় তারা। ঠান্ডার হাত থেকে চিড়িয়াখানার পশুপাখিদের বাঁচাতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে পশুশালা কর্তৃপক্ষ। এনক্লোজার মোটা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে উত্তাপের জন্য বসানো হয়েছে ইউভি লাইট।
হাওড়ার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হল গড়চুমুক। সেখানে ৯.১ হেক্টর জায়গাজুড়ে রয়েছে মিনি জু। রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পশুপাখি। পাশাপাশি রাজ্য প্রাণী বাঘরোল প্রজনন কেন্দ্রও তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে হরিণ, এমু, ইন্ডিয়ান রক পাইথন, কুমির, কচ্ছপ, ইগুয়ানা, সজারু, নীল গাই, সিলভার ফ্রেজেন্ট, বদ্রি, জাভা, সরাল, টিয়া, কাকাতুয়া, রাজহাঁস ইত্যাদি আছে। এই প্রবল ঠান্ডায় প্রাণীগুলির অবস্থা বেহাল। তাদের বাঁচাতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। গড়চুমুক জুওলজিজ্যাল পার্কের ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার এষা বোস জানান, সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী বা ছোটো পাখিরা ঠান্ডায় বেশি কাবু হয়। তাদের জন্য এনক্লোজারগুলি মোটা কাপড় দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গরমের জন্য ইউভি লাইট দেওয়া থাকে। সরীসৃপদের জন্য খড়ের বস্তা দেওয়া থাকে। ইগুয়ানাদের এনক্লোজারে জন্য কাঠের ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। স্টার কচ্ছপদের থাকার জায়গা গরম রাখতে খড় এবং মোটা কাপড় ও হোগলার ছাউনি করে ভিতরে দেওয়া হয়েছে ইউভি লাইট। হরিণদের শেডগুলি ঘিরে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও কুমির এবং পাইথনের জন্য জলের উষ্ণতার লেভেল মেনটেন করা হচ্ছে। সরীসৃপদের এনক্লোজারের শেড এমনভাবে রাখতে হয় যাতে দিনের বেলা তা সরিয়ে দিলে সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারে। রাতে তা ফের ঢেকে দেওয়া যায়।