নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: ডিএনএ রিপোর্টের ভিত্তিতে শিশুর দেহ প্রকৃত পরিবারের হাতে তুলে দিল পুলিশ। বুধবার আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে পুলিশ দেহ হস্তান্তর করে তারকেশ্বরের পরিবারের হাতে। মাস খানেক আগে আরামবাগ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত শিশুর দেহ বদল হয়। আরামবাগের একটি পরিবারের হাতে শিশুর দেহ তুলে দেওয়া হয়। সেই ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়েছিল। তারকেশ্বরের পরিবার শিশু নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করে। এদিন মৃতদেহ হাতে পাওয়ার পরেও হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে সরব হয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
হুগলি গ্রামীণ পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ডিএনএ স্যাম্পল পরীক্ষার রিপোর্ট মঙ্গলবার আসে। তাতে শিশুর সঙ্গে তারকেশ্বরের পরিবারের বাবা ও মায়ের নমুনা মিলে গিয়েছে। তাই নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এদিন শিশুর দেহ তাঁদের হস্তান্তরিত করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। ঘটনায় যাদের গাফিলতি রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরামবাগ মেডিক্যালের অধ্যক্ষ রমাপ্রসাদ রায় বলেন, সেদিনের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও দুই নার্সের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়েছে। তার রিপোর্ট স্বাস্থ্য ভবনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত তাঁদের কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তারকেশ্বরের বাসিন্দা জাসমিনা বেগম শিশুপুত্রের জন্ম দেন। নবজাতকের ওজন ছিল প্রায় দেড় কেজি। কিন্তু, শিশুর শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাকে হাসপাতালেই এসএনসিইউ বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। অভিযোগ, ওই শিশুর দেহ আরামবাগের একটি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সেই পরিবার শিশুর দেহ সমাহিত করে দেয়। তারপর ঘটনা জানাজানি হতেই হইচই পড়ে যায়। প্রসূতি জাসমিনা বেগমের পরিবার আরামবাগ মেডিক্যালের পাশাপাশি থানায় শিশু নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করে। তার ভিত্তিতে আরামবাগ মহকুমা আদালতের নির্দেশে কবর থেকে শিশুর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পাঠানো হয় মেডিক্যালের মর্গে। পরে শিশু সহ প্রসূতি ও তাঁর স্বামীর ডিএনএ স্যাম্পল নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতদিন শিশুর দেহ মর্গেই সংরক্ষণ করে রাখা হয়। ডিএনএ রিপোর্ট আসার পর এদিন শিশুর দেহ তারকেশ্বরের পরিবারের হাতে তুলে দেয় পুলিশ। তারকেশ্বরের প্রসূতি জাসমিনা বেগম বলেন, আমি সুস্থ সন্তানের জন্ম দিয়েছিলাম। পরে শিশুটির মৃত্যু হয়। কিন্তু, ওই দেহ অন্য পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এমন ভুল হয় কী করে? সেদিনের দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।