টিসি দিতে পড়ুয়াদের থেকে ৩০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ হাবড়ায়
বর্তমান | ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তির জন্য পড়ুয়াদের দেওয়া হয় ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি)। নিয়ম অনুযায়ী, কোনও সরকারি স্কুলে টিসি’র জন্য টাকা নেওয়া হয় না। কিন্তু তার জায়গায় সম্পূর্ণ উলটপুরাণ হাবড়া নিম্ন বুনিয়াদি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পড়ুয়া প্রতি নেওয়া হচ্ছিল ৩০০ টাকা। প্রতিবাদে বুধবার বিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ দেখালেন অভিভাবকরা। পরে, পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবার তৃণমূলের জেলা শিক্ষক সেলের নেতা। স্বাভাবিকভাবে এই ঘটনায় রাজনৈতিক রং লেগেছে।
হাবড়া থানায় এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন অভিভাবকরা। বিক্ষুব্ধ অভিভাবক রুমা বিশ্বাস বলেন, টিসি’র জন্য প্রথমে আবেদন করতে হচ্ছে। এর জন্য কোনও স্কুল ১০ টাকা নিচ্ছে। কোনও স্কুল আবার টাকা নিচ্ছে না। শুধু হাবড়া নিম্ন বুনিয়াদি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩০০ টাকা ধার্য করেছে। এর জন্য আগাম কিছু জানানো হয়নি অভিভাবকদের। এই টাকা নেওয়া হলেও কোনও রশিদ দেওয়া হচ্ছে না। আরেক অভিভাবক জগন্নাথ সাহার দাবি, টাকা দিয়ে টিসি নেওয়ার পরেও এখন অস্বীকার করছে বিদ্যালয়। যে খাতায় টিসি নেওয়ার সময় টাকার অংক লেখা ছিল, সেটিও লুকিয়ে ফেলেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। টিসি’র জন্য টাকা দিতে হবে, এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। এর প্রতিবাদে বুধবার বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকরা।
থানায় অভিযোগ জানাতে আসা অভিভাবক নির্মল মল্লিক বলেন, টাকা না দিলে টিসি দেবে না বলে প্রধান শিক্ষক হুমকি দিচ্ছেন। তাই থানায় অভিযোগ জানিয়েছি। অভিভাবকদের আরও দাবি, যাঁরা টাকা দিতে পারছেন না, তাদের টিসি আটকে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, ২০২৬ সালে টিসি দেওয়া হলেও ওই সার্টিফিকেটে ২০২৫ সাল লেখা রয়েছে। এ নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রনীল মিত্র বা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মুখে কুলুপ এঁটেছেন। এনিয়ে কটাক্ষ করে স্থানীয় বিজেপি নেতা দেবজ্যোতি দাম বলেন, তৃণমূল কয়েক মাস বাদেই ক্ষমতাচ্যুত হবে জেনে এইসব করছে। এ নিয়ে হাবড়া পুরসভার চেয়ারম্যান নারায়ণচন্দ্র সাহা বলেন, টিসি’র জন্য কোনও টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি। অভিযোগের সত্যতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিজস্ব চিত্র