নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নর্থ-সাউথ মেট্রো করিডরে আজ বৃহস্পতিবার থেকে সারাদিনে পরিষেবার সংখ্যা একলাফে ১০টি বাড়তে চলেছে। সোম থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এই বাড়তি মেট্রো চলবে। বুধবার পর্যন্ত শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে দক্ষিণেশ্বর রুটে সারাদিনে ২৭২টি পরিষেবা ছিল। আজ থেকে তা বেড়ে হবে ২৮২টি। বয়স ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধুঁকছে মেট্রো। গত জুলাইতে কবি সুভাষ মেট্রোর পিলার ধসে গিয়ে দক্ষিণের আস্ত প্রান্তিক স্টেশন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তারপর থেকে মেট্রো চলাচল কার্যত শিকেয় উঠেছে বলে যাত্রীদের অভিযোগ। রেক বিভ্রাট, বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হওয়া সহ প্রায়ই বিবিধ কারণে মেট্রো রেলের চাকা থমকে যাচ্ছে। নাকাল হচ্ছেন যাত্রীরা। এহেন প্রতিকূলতায় পরিষেবা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কতটা যাত্রীবান্ধব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু হয়েছে।
এছাড়া আজ থেকে দক্ষিণেশ্বর থেকে দিনের শেষ মেট্রো ছাড়ার সময় ১০ মিনিট পিছিয়ে যাচ্ছে। আজ রাত ৯টা ৩৮ মিনিটে দক্ষিণেশ্বর থেকে শেষ মেট্রো যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করবে। তবে অতিরিক্ত এই পরিষেবা মিলবে মহানায়ক উত্তমকুমার (টালিগঞ্জ) পর্যন্ত। তবে রাত ৯টা ২৮ মিনিটে নির্ধারিত সূচি মেনে গোটা রুটে ছুটবে।
নর্থ-সাউথ রুটে মেট্রো যন্ত্রণার অন্যতম কারণ নতুন চীনা রেক। প্রায়ই মাঝপথে বিগড়ে যাচ্ছে রেকগুলি। চলতি সপ্তাহে দু’দিন যার সাক্ষী থাকল যাত্রীরা। সোমবার পরিষেবা শুরুর পরেই মেট্রো চলাচল কার্যত শিকেয় ওঠে। চীনা রেক (নম্বর- এমআর ৫১০) শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশন থেকে বেরতেই অচল হয়ে পড়ে। রেকটি কবি সুভাষ কারশেড থেকে যাত্রা শুরুর সময়ই খোঁড়াতে শুরু করে। কোনও মতে শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশনে পৌঁছে পুরোপুরি বসে যায়। ঘড়িতে তখন সকাল সাড়ে ৭টা। স্টেশনে স্টেশন স্কুল-অফিস যাত্রীদের ভিড়। কিন্তু দক্ষিণেশ্বরগামী আপ লাইনে ‘অসুস্থ’ চীনা রেক দাঁড়িয়ে পড়ায় নর্থ-সাউথ মেট্রো করিডর রীতিমতো অচল হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় পর কোনও মতে রেকটি ফের কবি সুভাষ স্টেশনে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। ২৮ ডিসেম্বর গত বছরের শেষ রবিবার একইভাবে টালিগঞ্জ স্টেশন ঢোকার মুখে আরও একটি চীনা রেক ( নম্বর –এমআর ৫১০) বিগড়ে গিয়েছিল। যার জেরে প্রায় আড়াই ঘণ্টা মেট্রো চলা বন্ধ ছিল এই রুটে। এই মুহুর্তে মেট্রোর ‘গ্যারেজে’ এমআর ৫০৩ ও ৫১১ জোড়া চীনা রেক পড়ে রয়েছে।
কয়েক মাস আগে ব্রান্ড নিউ এই দু’টি রেক জাহাজে করে কলকাতায় পাড়ি দিয়েছিল। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুতিপূর্ণ রেকগুলিকে ফেলে রাখা হয়েছে। যাত্রী পরিষেবায় নামানো যাচ্ছে না। এমআর ৫১৩ একইভাবে ‘অসুস্থ’ হয়ে বিশ্রামে রয়েছে। এখন পরিষেবা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোগান্তি কতটা কমে , সেটাই দেখার।