নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরে ফের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। বুধবার শীতের সন্ধ্যায় কলকাতার আনন্দপুরের নোনাডাঙা বস্তিতে আগুন লাগে। গোটা বস্তি দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করে। কীভাবে আগুন লাগে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী। ঘণ্টা দুয়েকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে দমকলের ন’টি ইঞ্জিন। যদিও এই ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর নেই। তবে বস্তির বেশিরভাগ ঝুপড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের স্থানীয় কমিউনিটি হলে রাখার ব্যবস্থা করেছে পুর প্রশাসন। জানা গিয়েছে, বস্তিতে প্রায় ১০০টি ঝুপড়ি ছিল। এর সিংহভাগ ঝুপড়িই পুড়ে ছারখার হয়ে গিয়েছে। শীতের রাতে আশ্রয় হারিয়ে অসহায় বোধ করছেন বাসিন্দারা।
এদিন সন্ধ্যা ৬টা ২০মিনিটে আগুন লাগে নোনাডাঙা বস্তিতে। ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন প্রত্যেকে। ঘটনাস্থলে যায় দমকল বাহিনী। প্রথমে ২টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে যায়। পরে যায় আরও ৫টি। তারপরও ইঞ্জিনের সংখ্যা বাড়াতে হয়। শীতকাল হওয়ায় এবং মোটামুটি হাওয়া থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত। এই পরিস্থিতিতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ বেগ পেতে হয় দমকল কর্মীদের।
আগুন লাগার কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন দমকলের আধিকারিকরা। দমকলের তৎপরতায় রাত সাড়ে ৮টার মধ্যেই আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। তবে ‘পকেট ফায়ার’ সামলাতে আরও বেশ কিছুক্ষণ সময় লেগেছে দমকলের। ঘটনার পর কান্নার রোল উঠেছে এলাকায়। শীতের সন্ধ্যায় সর্বস্ব খুইয়েছেন অমিত লোহার, শিবু দাস, ইব্রাহিম ওস্তাগররা। অনেকেই ঘর থেকে ছুটে বেরিয়ে এসেছেন। সঙ্গে নিতে পারেননি কিছুই। আসবাবপত্র থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সব পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। যদিও প্রশাসনের তরফে সহযোগিতার বার্তা দেওয়া হয়েছে। রাতেই ঘটনাস্থলে যান মন্ত্রী জাভেদ খান ও কলকাতা পুলিশের সিপি মনোজকুমার ভার্মা। স্থানীয় ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা ১২ নম্বর বরো চেয়ারম্যান সুশান্তকুমার ঘোষও সেখানে যান। তিনি বলেন, ‘ওখানে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা ওদের পাশে রয়েছি। আশপাশের বিভিন্ন কমিউনিটি হলে ওদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছে। মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গেও কথা হয়েছে। যেখানে ঝুপড়িগুলি পুড়ে গিয়েছে, সেখানেই পুরসভার তরফে ওঁদের থাকার ব্যবস্থা আগামী দিনে করে দেওয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই আগুন লাগে নিউটাউনের ঘুনি বস্তিতে। প্রচুর পরিমাণ দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় সেই বস্তিতে এভাবেই নিমেষে ছড়িয়ে পড়েছিল আগুন। গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে আতঙ্কে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন বাসিন্দারা। এখানেও তেমন আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। নিজস্ব চিত্র