• দখল হটানো না কি নাব্যতা বজায় রাখা, জোড়া সঙ্কট নিয়ে খাল সমীক্ষা
    আনন্দবাজার | ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • গত বছর দুর্গাপুজোর আগে বিপুল পরিমাণ বৃষ্টিতে বানভাসি হয়েছিল কলকাতা। এর নেপথ্যে উঠে এসেছিল শহরের খালগুলির জল বহনের অক্ষমতার দিকটি। চলতি বছরে বর্ষায় যাতে একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য এখন থেকেই শহরের বিভিন্ন খালের হাল-হকিকত খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করতে চলেছে সেচ দফতর।

    রাজ্যের সেচমন্ত্রী মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া জানান, এর জন্য কলকাতা পুরসভার সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘গত বছর হিসাবের বাইরে বৃষ্টি হয়েছিল। যে কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে সমস্যা হয়েছে। এ বার পুরসভার সঙ্গে আমাদের দফতরের আধিকারিকেরা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। সেচ দফতর ও কলকাতা পুরসভা যৌথ ভাবে দুর্যোগ মোকাবিলার কাজ করবে। পুরসভার যে ধরনের সাহায্য প্রয়োজন হবে, তা সেচ দফতর তাদের দেবে।’’

    চলতি বছরে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। গত সেপ্টেম্বরের দুর্যোগে ঘরে জল ঢুকে যাওয়ার পাশাপাশি, বৃষ্টিতে বিকল হয়ে গিয়েছিল অনেকের বহু দামি গাড়িও। তাঁরা সেই গাড়ি সারাই করতে দিয়ে এখনও তা ফেরত পাননি। ফলে আগামী ভোটে কলকাতা শহরে জল জমার সমস্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    শহরের আশপাশ দিয়ে বয়ে চলা বিভিন্ন খালের ধারে গজিয়ে ওঠা ঝুপড়ি যে জ্বলন্ত একটি সমস্যা, তা মানছে সেচ দফতরও। খালগুলির নাব্যতা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ ঝুপড়ির বাসিন্দাদের খালের ধার ও অন্দর দখল করে থাকা এবং যাবতীয় আবর্জনা ফেলার জায়গা হিসেবে খালকে ব্যবহার করা, এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

    এই পরিস্থিতিতে উভয় সঙ্কটে পড়েছে সেচ দফতর। ই এম বাইপাসের ডিডি-১ (পূর্ব) খালে সম্প্রতি পলি নিষ্কাশনের কাজ শুরু হয়েছে। বছরের পর বছর ওই খালটির ভিতর ও খালের ধার দখল হয়ে ছিল। সম্প্রতি খালের জলের উপরের দখলদারি ভেঙে সেখানে সংস্কারের কাজ শুরু করেছে সেচ দফতর। কিন্তু, খালধার দখলমুক্ত করার সাহস দেখাতে পারেনি তারা। ই এম বাইপাসের দিক থেকে মাদুরদহকে যুক্ত করা ওই খালটিতে দখলকারীদের বাধায় জেসিবি নামানোর জায়গা পাওয়া যায়নি। শেষে প্রায় ১২০০ মিটার ভাসিয়ে মাদুরদহের দিক থেকে জেসিবি নিয়ে আসতে হয়েছে। এর পিছনে ভোটের রাজনীতিই প্রাধান্য পাচ্ছে বলে মনে করছেওয়াকিবহাল মহল। গত পুজোর আগে হওয়া বৃষ্টিতে খাল উপচে প্লাবিত হয়েছিল ই এম বাইপাস লাগোয়া বহু এলাকা।

    সেচ দফতরের আধিকারিকেরা জানাচ্ছেন, কলকাতার খালগুলির কী পরিস্থিতি, তা সমীক্ষা করে দেখা হবে। এর পরে কোন খালে কী ধরনের পরিচর্যা প্রয়োজন, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁরা আরও জানান, যে ভাবে ঋতুচক্রের পরিবর্তন হচ্ছে, তাতে আগামী বর্ষাও ভয়াল রূপ ধারণ করতে পারে, এমনটা ধরে নেওয়া হচ্ছে। ফলে, শহরের বৃষ্টির জল নামাতে একাধিক পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। বেশ কিছু জায়গায় তৈরি হবে নতুন পাম্প হাউস। এ নিয়ে কলকাতা পুরসভার সঙ্গে বৈঠক করেছে সেচ দফতর। সূত্রের খবর, পুরসভাকে তারা জানিয়েছে, যে সব জায়গা সেচ দফতর এবং পুরসভার সংযোগস্থলে, সেই জায়গাগুলির নিকাশি পরিষ্কারের দায়িত্ব পুরসভাকেই নিতে হবে। সেচ দফতর শুধু খালের নাব্যতা বজায় রাখার কাজ করবে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)