• পক্ষাঘাতগ্রস্ত, অ্যাম্বুল্যান্সেই হল শুনানি
    আজকাল | ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যজুড়ে চলছে এসআইআর-এর শুনানি। এই পর্বেও জেলায় জেলায় চূড়ান্ত হয়রানির শিকার বহু অসুস্থ, বয়স্ক নাগরিকরা। অ্যাম্বুল্যান্স করে শুনানিতে পৌঁছতে দেখা গেছে অনেককে। অক্সিজেনের নল গুঁজেও এক বৃদ্ধ শুনানিতে পৌঁছেছিলেন। 

    এবার অসুস্থ অবস্থায় শুনানিতে পৌঁছলেন একাধিক বাসিন্দা। ঘটনাস্থল মেদিনীপুর। জেলাশাসকের অফিস চত্বরেই অ্যাম্বুল্যান্সে এসআইআর-এর শুনানি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাশাসক দপ্তরের এসআইআর শুনানি কেন্দ্রে। জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর পুরসভার অন্তর্গত ১৮ নং ওয়ার্ডের পালবাড়ি এলাকার বাসিন্দা শেখ মনিরুদ্দিন। তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত অবস্থায় ছ'বছর ধরে রয়েছেন বাড়িতে। 

    পরিবারের তরফে জানা গেছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। সেই কারণে দেওয়া হয়েছে শুনানির নোটিশ। অ্যাম্বুল্যান্সের মধ্যে শুনানি হয়েছে। 

    অন্যদিকে ওই একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলিমা বিবি নামের এক মহিলাও পক্ষাঘাতগ্রস্ত। পালবাড়িতে বসবাস ৩০ বছর ধরে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল। কিন্তু সেই তালিকায় তাঁর স্বামীর নামের বানান ভুল থাকায় দেওয়া হয়েছিল শুনানির নোটিশ। পক্ষাঘাতগ্রস্ত অবস্থায় শুনানিতে পৌঁছন ওই মহিলা। শেষমেশ অ্যাম্বুল্যান্সে তাঁর শুনানি হয়। 

    এসআইআর-এর শুনানিতে ফের হয়রানি। অসুস্থ অবস্থায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেন এক ব্যক্তি। মিডিয়া আসতেই নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। বর্ধমান পুরসভার তেলিপুকুরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অশোক শর্মা।২৭৪ নম্বর পার্টের একজন ভোটার। 

    গতকাল বুধবার পূর্ব বর্ধমান জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে ভোটার তালিকায় নাম সংক্রান্ত সমস্যার কারণে তাঁকে দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি শুনানির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও প্রায় কুড়ি মিনিট ধরে তিনি জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে পড়ে ছিলেন। 

    সেই সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা প্রশাসনিক সহায়তা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ। তবে ঘটনাস্থলে মিডিয়ার উপস্থিতি লক্ষ্য করতেই তৎপর হয় জেলা প্রশাসন।পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে অবশেষে অসুস্থ নাগরিক অশোক শর্মাকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। 

    যদিও এই সময় জেলা প্রশাসনের প্রশাসনিক আধিকারিক সন্তু দরফদার মিডিয়াকে ছবি তুলতে বাধা দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় শুনানি কেন্দ্রের পরিষেবা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নাগরিকদের অভিযোগ, মিডিয়ার নজর না পড়লে হয়তো অসুস্থ নাগরিকের পাশে দাঁড়াত না প্রশাসন। প্রশ্ন উঠছে কমিশনের নির্দেশিকা ও ভূমিকা নিয়েও। যদিও অতিরিক্ত জেলা শাসক অমিয় কুমার দাস জানান, অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এক ব্যক্তি। তবে তাঁর চিকিৎসার জন্য সবরকম ব্যবস্থা করা হয়েছে।
  • Link to this news (আজকাল)