অয়ন ঘোষাল: অচেনা দিলীপ। আসতে মানা ইকো পার্কে। তাহলে কি ৯ বছরের মর্নিং ওয়াক শেষের প্রশ্নোত্তর পর্ব আপাতত ইতিহাস? সর্বদাই ডাকাবুকো। চালিয়ে খেলেন। বাউন্সার মার্কা প্রশ্নে ধেয়ে আসে দাপুটে উত্তর। রাজনীতিতে তাঁর পরিচিতি 'দাবাং' নেতা বলেই! এহেন দিলীপ ঘোষ বৃহস্পতিবার রাখঢাক না করে সাংবাদিকদের জানিয়ে দিলেন, কাল থেকে আর কষ্ট করে আসতে হবে না। কারণ তিনি কিছুই বলবেন না।
বারমুডা থেকে আড়ং ধোলাই। রাজ্য রাজনীতির ঝড় তোলা দিলীপ ঘোষোচিত একের পর এক মন্তব্যের জন্মভূমি নিউ টাউন ইকো পার্ক। কলকাতায় না থাকলেও যেখানেই থেকেছেন, তা সে খড়গপুরের চায়ের দোকানের বেঞ্চ হোক বা মেদিনীপুরের বজরঙ্গবলী মন্দিরের চাতাল। দিলীপ ঘোষ প্রাতঃভ্রমণে এসেছেন মানেই হাঁটাহাঁটি শেষ করে একাধিক মুখরোচক বাইট দেবেন এটাই ছিল গত ৯ বছরের দস্তুর। ২ মাস আগেও দলে তাঁর থাকা না থাকা নিয়ে জল্পনা চলছিল। যার জন্ম হয়েছিল ৩০ এপ্রিল ২০২৫ সালে অক্ষয় তৃতীয়ার বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে সস্ত্রীক দীঘা জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ থেকে। তারপর খেলা ঘুরেছে।
নতুন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উদ্যোগে দলে ফের নিজের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার পর্ব চলছে দিলীপ ঘোষের। পেয়েছেন সল্টলেক বিজেপি পার্টি অফিসে নতুন ঘর। পেয়েছেন সাংগঠনিক দায়িত্ব। পেতে চলেছেন বিধানসভা আসনের প্রার্থী পদও। হতে চান মন্ত্রীও! মন্ত্রী হতে চাওয়ার প্রবল ইচ্ছায় দুদিন আগেও প্রথমে প্রকাশ্য জনসভা এবং তারপর মর্নিং ওয়াক পর্বে বাইট দিয়েছেন। যদিও আগে থেকেই বার বার বারণ করা হচ্ছিল। রেজিমেন্টেড পার্টি বিজেপি দলীয় অনুশাসনের নিগড়ে আবদ্ধ। সেখানে হুটহাট কিছু বলা, আলটপকা বেমক্কা মন্তব্য দল কোনওদিন-ই ভালো চোখে নেয় না।
এখন আগের দিলীপ ঘোষ হলে হয়তো এই অনুশাসনের তোয়াক্কা করতেন না। কিন্তু নতুন দিলীপের সামনে তিন তিনটি উজ্বল সম্ভবনা। নিজের রাজনৈতিক কেরিয়ারের উন্নতির সুযোগে নতুন করে জল না ঢেলে তাই সংযত দিলীপ। কথা বললে দু- একটা বেফাঁস কথা বেরবেই। তাই নিজেই নিজের মুখে তালা দিলেন দিলীপ ঘোষ। তালা ঝোলালেন বাইটে...