দিল্লির তুর্কমান গেট এলাকার বেআইনি নির্মাণ ভাঙাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ দিল্লি পুলিশের। বুধবার ভোরে দিল্লির রামলীলা ময়দান সংলগ্ন ফয়েজ়-ই-ইলাহি মসজিদের কাছে উচ্ছেদ অভিযান চলছিল। সেই সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব রটে যায় মসজিদের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। যার জেরে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। ঘটনায় অভিযুক্ত সন্দেহে কমপক্ষে ৩০ জনকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই তাঁদের খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান।
দিল্লি পুলিশের অভিযোগ, তুর্কমান গেট এলাকায় বেআইনি নির্মাণ উচ্ছেদের সময়ে গুজব ছড়াতে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন ইউটিউবার সলমান খান। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, তিনি ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে অনবরত ভিডিয়ো করছিলেন এবং মুহূর্তের মধ্যে তা পোস্ট করছিলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। পুলিশের অভিযোগ, সলমন ভিডিয়োয় উস্কানিমূলক বক্তব্য পেশ করে তা ছড়িয়ে দেন। সেই কারণেই ওই এলাকায় লোকজন জড়ো হন ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান।
পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন পুলিশ এবং পুরকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর এবং কাচের বোতল ছুড়তে শুরু করে উন্মত্ত জনতা। ঘটনায় গুরুতর জখম হন পাঁচ পুলিকর্মী। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস এবং লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয় পুলিশ। বুধবারেই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের খোঁজেও শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান।
পুলিশের দাবি, এ দিনের ঘটায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ মহিবুল্লাহ নাদভির বিরুদ্ধে। বিক্ষোভের সময়ে তিনিও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে সূত্রের খবর। এমনকি, একটি ভাইরাল ভিডিয়োয় সাংসদ মহিবুল্লাহকে দেখা গিয়েছে পুলিশের সঙ্গে তর্কে করতে। সেই কারণেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উচ্ছেদ অভিযানের হিংসার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৪০০টিরও বেশি ভিডিয়ো প্রকাশ্য এসেছে। সেই ভিডিয়োর সাহায্যেই অভিযুক্তদের শনাক্ত করেছে পুলিশ। উচ্ছেদ চলাকালীন সেখানে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ মানুষ জড়ো হয়েছিল। প্রথমে বুঝিয়ে অনেককে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হলেও, একদল মানুষ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে পাথর ছুড়তে শুরু করে।
দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে তুর্কমান গেট এলাকার মসজিদ সংলগ্ন জমিতে একটি কবরখানার ধারের অবৈধ নির্মাণ সরাতে গিয়েছিল পুরসভা (MCD)। উচ্ছেদ চলাকালীন বেশ কয়েকজন উন্মত্ত জনতা পুলিশ ও পুরকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর এবং কাঁচের বোতল ছুড়তে শুরু করেন। MCD ডেপুটি কমিশনার বিবেক কুমার জানিয়েছেন, একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং একটি ব্যাঙ্কোয়েট হল-সহ কিছু বাণিজ্যিক নির্মাণ ভাঙা হয়েছে, তবে মসজিদের কোনও ক্ষতি করা হয়নি।