• ভোটের আগে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থামাতে তৎপর তৃণমূল
    এই সময় | ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, চুঁচুড়া ও আরামবাগ: অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিধানসভা ভোটের আগে হুগলিতে ঘর গোছানোর কাজ শুরু করল শাসকদল। বিধানসভা নির্বাচনে দল যাতে ঐক্যবদ্ধ ভাবে ঝাঁপাতে পারে, তার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করছে তৃণমূল। সেই লক্ষ্যে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে রাশ টানতে চাইছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। রাজ্য সরকার একের পর এক জনমুখী প্রকল্প হাতে নিলেও গত লোকসভা ভোটে হুগলি জেলায় একাধিক বিধানসভা এলাকায় বিজেপির থেকে কয়েক কদম পিছিয়ে পড়েছিল তৃণমূল। জেলা সদর চুঁচুড়া বিধানসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনেও পিছিয়ে পড়েছিলেন শাসকদলের প্রার্থী।

    সেই হারের ময়না তদন্তে উঠে আসে, দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে গোষ্ঠী কাজিয়া এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে দলের এক শ্রেণির নেতা-কর্মীদের দুর্ব্যবহার ও স্বজনপোষণের কারণেই কিছু মানুষের মধ্যে শাসকদলের প্রতি অসন্তোষ জন্মেছে। তারই প্রতিফলন দেখা দিয়েছে ভোটবাক্সে। তা থেকে শিক্ষা নিয়েই ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে হুগলি জেলায় সাংগঠনিক রদবদল ঘটানো হয়েছে। দলের কো-অর্ডিনেটর বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও একই সঙ্গে অভিজ্ঞ ও নতুন মুখদের তুলে এনে দলীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে চেয়েছে দল। শ্রীরামপুর, চাঁপদানি ও চুঁচুড়া বিধানসভার কো-অর্ডিনেটর হিসেবে জেলা পরিষদের শিক্ষার কর্মাধ্যক্ষ তথা মেন্টর সুবীর মুখোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। লোকসভা ভোটে পিছিয়ে থাকা চুঁচুড়া ও বাঁশবেড়িয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ পুরসভা ও বিধানসভার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শ্রীরামপুরের বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। দায়িত্ব নিয়েই নতুন বছরের শুরুতেই হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিধায়ক অসিত মজুমদারকে পাশে বসিয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থামিয়ে সবাইকে একসঙ্গে চলার পরামর্শ দিয়েছেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

    কল্যাণের এই উদ্যোগের তারিফ করছেন দলের নিচুতলার কর্মীরাও। অনেকেই মনে করছেন, কল্যাণের এই পদক্ষেপ বিধানসভা ভোটের আগে ভোকাল টনিকের কাজ করবে। এক জেলা তৃণমূল নেতার কথায়, 'সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিধায়ক অসিত মজুমদারের দ্বন্দ্ব বারবার প্রকাশ্যে চলে আসছিল। উভয়েই একে অপরের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমের সামনে বিষোদগার করায় দলের নিচুতলায় ভুল বার্তা যাচ্ছিল। বিধায়ক এবং সাংসদের অনুগত নেতা-কর্মী এবং পুরসভার চেয়ারম্যানরাও ক্রমশ বিবাদে জড়িয়ে পড়ছিলেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সঠিক সময়েই হস্তক্ষেপ করেছেন। দলের স্বার্থে এটা খুবই জরুরি ছিল।' সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'কিছু ভুল নিশ্চয় হয়েছে। না হলে দুয়ারে সরকার থেকে পাড়ায় সমাধানের মতো নাগরিক পরিষেবা দেওয়ার পরেও আমাদের হারতে হয়েছে। তবে সেটা আমরা কাটিয়ে উঠব। আসলে সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখে কতিপয় নেতা নিজের আখের গোছাতে গিয়ে দলকে দুর্বল করেছে। সেগুলো মেরামত করেই আমরা এগিয়ে যাব।'

    চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার অবশ্য বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চুঁচুড়ায় যাঁকেই প্রার্থী করবেন, সেই প্রার্থী ৫০ হাজার ভোটে জিতবে।' হুগলির আরামবাগ লোকসভা কেন্দ্রের সবকটি বিধাসভা আসন রয়েছে বিজেপির দখলে। এখানেও তৃণমূলের সবথেকে বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। কয়েক মাস আগে এক ভিডিয়ো কনফারেন্স বৈধকে আরামবাগ পুনরুদ্ধারের জন্য টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই লক্ষ্য পূরণে সম্প্রতি গোঘাট ও আরামবাগ এলাকার কো-অর্ডিনেটর নিয়োগ করা হয়েছে দলের রাজ্য সম্পাদক স্বপন নন্দীকে। দায়িত্ব পেয়েই দলের বিভিন্ন গোষ্ঠীর নেতাদের এক ছাতার তলায় আনতে উদ্যোগী হয়েছেন তিনি। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে গ্রামে গ্রামে শুরু হয়েছে উন্নয়নের পাঁচালির প্রচার। তার অগ্রভাবে থাকছেন দলের মহিলা কর্মীরা।

    তারই অঙ্গ হিসেবে বুধবার গোঘাটে গিয়েছিলেন স্বপন। সেখানে গিয়ে এক সময়ের দাপুটে তৃণমূল নেতা আতাউল হকের সঙ্গে দেখা করেন। নানা কারণে আতাউল অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিলেন। তিনি যাতে দলের কাজে সক্রিয় হন আতাউলকে বিশেষ ভাবে অনুরোধ করে স্বপন। স্বপনের কথায়, 'আমাদের জনদরদী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের মাথার উপরে আছেন। আমরা তাঁদের সৈনিক। আমরা সবাই দলের কর্মী। আমরা সবাই এক ছাতার তলায় আছি। আমাদেরকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।'

  • Link to this news (এই সময়)