• ন্যাস্টি হোম মিনিস্টার: সবুজ ফাইল হাতে বললেন মমতা
    আজকাল | ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি ও সল্টলেকের দপ্তরে বৃহস্পতিবার সকালে হানা দেয় ইডি-র আধিকারিকরা। এই অভিযানের মধ্যেই প্রতীক জৈনের বাড়ি পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছানোর মিনিট পাঁচেক আগেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মাও।

    আপাতত প্রতীক জৈনের বাড়ি ঘিরে রেখেছে কলকাতা পুলিশ।

    এই ঘটনায় সরব মুখ্যমন্ত্রী। আইপ্যাক কর্ণধারের বাড়িতে প্রায় তিন মিনিট থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। এরপরই মমতা ব্যানার্জি বলেন, "তৃণমূলের আইটি সেলের দপ্তরে তল্লাশি চালাচ্ছে। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক পদক্ষেপ। নির্বাচনের আগে আমাদের সব তথ্য নিতে চাইছে ইডি। ওরা আমার দলের সমস্ত নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করছিল। আমি সেগুলো নিয়ে এসেছি। এটা কি ইডি-র কাজ?" এরপরই হুঁশিয়ারির সুরে তিনি বলেন, "আমরা যদি বিজেপির দলীয় দপ্তরে অভিযান চালাই, তাহলে কী হবে?"

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-কেও আক্রমণ করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। ক্ষুব্ধ মমতা ব্যানার্জি বলেন, "অমিত শাহ ন্যাস্টি হোম মিনিস্টার। উনি দেশকে সামলাতে পারেন না! আমার দলের নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করাচ্ছেন।"

    এসআইআর ইস্যুতেও সুর চড়ান মুখ্যমন্ত্রী। দাবি করেন, "এসআইআর করে বাংলার মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। দু'কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষকে শুনানিতে ডাকছে।"

    এরপর সল্টলেকের সেক্ট ফাইভের অ্যাইপ্যাকের দপ্তরেও পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রী সুজিত বসু, কৃষ্ণা চক্রবর্তী। পরে সেখানে আসেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারও। 

    সল্টলেকে আইপ্যাকের দপ্তর থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "ভোটের স্ট্র্যাটেজি ছিনতাই করেছে। আমাদের কাগজ, তথ্য সব লুট করেছে। লড়াই করার সাহস হচ্ছে না, এখন লুট করতে নেমেছে। হার্ড ডিস্ক, অর্থনৈতক কাগজ, পার্টির কাগজ নিয়ে নিয়েছে। বিজেপির মতো এত বড় ডাকাত দেখনি। এটা অপরাধ নয়?"

    সূত্রের খবর, দিল্লির একটি পুরনো কয়লা পাচার মামলার সূত্র ধরেই এই অভিযান চলছে। এই মামলার তদন্তে কয়েক বছর আগে ঝাড়খণ্ড এবং কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছিল। সেই সময় কয়লা পাচার মামলায় অনুপ মাঝি ওরফে লালা -কে দিল্লিতে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। শুধু অনুপ মাঝিই নন, এই মামলার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে আরও বেশ কয়েকজনকে জেরা করা হয়। পাশাপাশি টাকার লেনদেন সংক্রান্ত একাধিক নথি খতিয়ে দেখেন ইডির আধিকারিকরা। সেই জেরার সূত্র ধরেই উঠে আসে প্রতীক জৈনের নাম। তদন্তকারীদের হাতে আসে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কিছু তথ্য, যা যাচাই করতেই ফের সক্রিয় হয় ইডি। 
  • Link to this news (আজকাল)