আজকাল ওয়েবডেস্ক: সল্টেলেক সেক্টর ফাইভের অফিসে ইডির হানার পরেই হঠাৎ সেখানে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখান থেকে বেরিয়ে এসেই ইডির সামগ্রিক অভিযান ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি। একের পর এক ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসার ঘটনা আগেই দেখা গিয়েছে। আর এখান থেকেও কার্যত রণংদেহী মূর্তিতে দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রীকে।
তিনি বেরিয়ে এসে বললেন, 'বাংলায় জিততে চাইলে গণতন্ত্রের লড়াইয়ে রাজনৈতিক ভাবে লড়াই করুক বিজেপি। কিন্তু বিজেপি গণতন্ত্রের হত্যাকারী দল। ইডি পার্টির কাগজপত্র নিয়ে চলে গিয়েছে সব। ওরা ফোন নিয়েছে, হার্ডডিক্স নিয়েছে, কাগজপত্র সব নিয়ে চলে গিয়েছে, টেবিল খালি পড়ে আছে। বোঝা যাচ্ছে, বিজেপি গণতন্ত্রের হত্যাকারী দল। ওরা গায়ের জোরে, ফোর্সফুলি এসব করেছে। ওরা জোর করে বাংলাকে দখল করতে চাইছে। বাংলার মানুষ এর উত্তর দেবে।' মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তথ্য ট্রান্সফার করা হয়েছে।
পাশাপাশি, এদিন বেরিয়ে এসে মমতা বলেন, ''আমরা রেজিস্টার্ড রাজনৈতিক দল, ইনকাম ট্যাক্স দিই। এসআইআর-এর নামে হয়রানি করা হচ্ছে। আমার দলের তথ্য, ভোটের স্ট্র্যাটেজি পাচার করছে। এটা অপরাধ, মানি পাওয়ার, মাসল পাওয়ার ব্যবহার করছে। তারা কী ভেবেছে গায়ের জোরে সব দখল করবে? সব কাগজ নতুন করে তৈরি করতে গেলে নির্বাচন পেরিয়ে যাবে।”
বিজেপিকে আক্রমণ করে মমতা এদিন সাংবাদিকদের বলেন, ''বাংলায় জিততে চাইলে রাজনৈতিক ভাবে লড়ুক। বিজেপি গণতন্ত্র হত্যাকারী দল। ওরা সকালে প্রতীকের বাড়িতে যা করেছে, আইপ্যাকের অফিসেও তা করেছে। আসলে ওরা তৃণমূলের নির্বাচনী রণকৌশল পাচার করে দিয়েছে। এককথায় তথ্য লুঠ, ভোটার লুঠ, বাংলাকেও লুঠ করার চেষ্টা চলছে। আমি যদি এবার বিজেপির পার্টি অফিসে রেড করি, তা হলে কী হবে। বিজেপি এত বড় ডাকাত, তবু ইডি-সিবিআই হচ্ছে না কেন।''
মমতা এ দিন ঘোষণা করে দেন, 'বিকেল চারটের সময় সব ব্লকে ব্লকে সব ওয়ার্ডে প্রতিবাদে মিছিল হবে, এই ঘটনার প্রতিবাদে মিছিল হবে। তৃণমূল কংগ্রেসকে অ্যাটাক করা ও বিজেপির এই লুঠের বিরুদ্ধে আন্দোলন। এদিন সকালে যখন কেউ ছিল না, তখনই এসেছিল ওরা। আমি জানি আপনারা ঘটনা নিয়ে চিন্তিত। আপনারা জেনে রাখুন, সকাল ৬টা থেকে এই অপরেশন চালু করেছে। তাঁরা এসে সমস্ত ল্যাপটপ, সমস্ত ফোন ও অন্য সব জিনিস নিয়ে চলে গিয়েছে। ফরেন্সিক টিম নিয়ে এসে সকাল থেকে ট্রান্সফার করেছে। আমি মনে করি, এটা বেআইনি। আইপ্যাকের থেকে সব কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন আবার সব কাগজপত্র তৈরি করতে গেলে নির্বাচন পেরিয়ে যাবে।'