জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার শীতের সকাল থেকে সরগরম বাংলা। ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাক (I-PAC) এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাসভবন ও সল্টলেকের অফিসে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) ম্যারাথন তল্লাশিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন বাগযুদ্ধ। তৃণমূলের অভিযোগ, ২০২৬ নির্বাচনের রণকৌশল চুরি করতেই এই হানা। অন্যদিকে ইডির দাবি, এটি কয়লা পাচার মামলার একটি নিয়মিত অংশ। এই প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে একহাত নিলেন তৃণমূল বিধায়ক মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)।
এই তল্লাশিকে বিজেপির ‘ডরাও ধমকাও’ (ভয় দেখানোর) কৌশল বলে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, "তৃণমূলের স্ট্র্যাটেজি ডকুমেন্ট এবং প্রার্থী তালিকা পাওয়ার শেষ চেষ্টা করছে বিজেপি। এর জন্য আপনাদের পস্তাতে হবে।" একই সুর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলাতেও। তিনি অভিযোগ করেন, ইডি আই-প্যাক থেকে তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরি করছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "এআই (AI) ব্যবহার করে মিথ্যে ছড়ানো হচ্ছে। এ লড়াই মাঠে হবে এবং গণতান্ত্রিকভাবেই লড়া হবে।"
তৃণমূলের এই পাহাড়প্রমাণ অভিযোগের জবাব দিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থাও। ইডি সূত্রে জানানো হয়েছে, এই তল্লাশির সঙ্গে নির্বাচনের কোনও যোগ নেই। মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচার দমনের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই অভিযান। মূলত বেআইনি কয়লা পাচারের মাধ্যমে সংগৃহীত কালো টাকা এবং হাওলা লেনদেনের তথ্য খুঁজতেই দিল্লি ও পশ্চিমবঙ্গের ১০টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "আইন তার নিজের পথে চলছে। কোনো রাজনৈতিক দলের অফিস তল্লাশি করা হয়নি। তৃণমূল তদন্তের রাজনীতিকরণ করে জনগণের চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা করছে।" বিজেপির দাবি, পেশাদার তদন্তকারী সংস্থাকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে, আই-প্যাক দফতরে ইডির হানা এখন স্রেফ একটি আইনি তল্লাশি নয়, বরং ২০২৬-এর নির্বাচনী দামামার আগে এক বড়সড় রাজনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।