জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ছাব্বিশের আগে বেনজির সংঘাত। দিনভর টান টান নাটক। সল্টলেক সেক্টরে ফাইভে আইপ্যাকের অফিস থেকে এবার বেরিয়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলে গেলেন, 'আমার যেহেতু বিবেকানন্দের অন্য একটা প্রোগাম আছে, আমি প্রোগামটা করে আসছি'।
যেদিন কলকাতায় আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা, সেদিনই ভোট কুশলী সংস্থা আইপ্যাকের দুটি অফিসে হানা দিল ইডি। বাদ গেল না লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাক প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িও। খবর পেয়েই প্রথমে প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর চলে যান সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিসে। এরপর প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরেই সেখানে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিকেলে সেক্টর ফাইভ ছাড়লেন মুখ্যমন্ত্রী। গাড়িতে ওঠার আগে তিনি বলেন, 'বাংলার উপর যে হামলা ওরা করেছে, প্রত্যুত্তর জনগণ দেবে, এটা আমি বিশ্বাস করি। নিজেদের মুখ বাঁচানোর জন্য কিছু গোদি মিডিয়াকে কাজে লাগিয়েছে। সেই গোদি মিডিয়ার উপরেও আমরা নজর রাখছি। সবসময় সত্য অনুসন্ধান করতে দেব। কিন্তু অসত্য কথা যাঁরা বলেছে, বিজেপি-র কথা শিখিয়ে। তাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার দায়িত্ব আমার'।
সবুজ ফাইলে কী আছে?
এদিন প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌছনোর কিছুক্ষণ পরই বেরিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। হাতে সবুজ ফাইল। এরপর প্রতীকের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়েই অমিত শাহকে 'নটি-ন্যাস্টি হোম মিনিস্টার' বলে নিশানা করেন মমতা। তথ্য চুরির অভিযোগ করেন। শেষে সল্টলেকে আইপ্যাকের থেকে অফিসের বাইরে সাংবাদিকদের সামনে কার্যত বোমা ফাটান তিনি।
মমতা বলেন, 'আমাদের কাগজ ছিনিয়ে নিয়েছে। সকাল ৬টা থেকে অপারেশন শুরু করেছে। দলীয় তথ্য ট্রান্সফার করা হয়েছে। ল্যাপটপ থেকে দলীয় তথ্য ট্রান্সফার করা হয়েছে। সব কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়েছে। আমাদের সব কাগজ ছিনিয়ে নিয়েছে। আমি মনে করি এটা অপরাধ। এটা মার্ডার অফ ডেমোক্রেসি। গণতন্ত্রের হত্যাকারী বিজেপি। বিজেপির নির্দেশে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে। কোনও লিখিত নির্দেশ নয়, হোয়াটসঅ্যাপের নির্দেশে কাজ চলছে।' মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, 'সকালে অফিসে কেউ ছিল না। ফাঁকা অফিস থেকে ইডি সব কাগজপত্র, ল্যাপটপ, আইফোন নিয়ে গিয়েছে।' তোপ দাগেন, 'বিজেপির রাজনৈতিকভাবে লড়াই করার সাহস নেই। তাই ইডিকে দিয়ে আমাদের ভোটের স্ট্র্যাটেজি ছিনতাই করাল। আমাদের সব কাগজ, তথ্য লুট করাল। আইপ্যাক তৃণমূলের অথরাইজড টিম। তাদের কাছ থেকে ইডিকে দিয়ে চোরের মতো সব কাগজ লুট করানো হল। ভোটে মানুষ এর জবাব দেবে।'
ইডি সূত্রে খবর, দিল্লির একটি পুরনো কয়লা পাচার মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই এই অভিযান। কয়লা পাচার মামলায় অভিযুক্ত অনুপ মাঝি ওরফে লালা এবং আরও বেশ কয়েকজন সন্দেরভাজকে জেরার সূত্র ধরেই উঠে আসে প্রতীক জৈনের নাম। ইডি দাবি করেছে, আইপ্যাকের অফিসে ও প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি অভিযানের সঙ্গে নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ের কোনও যোগ নেই। টাকার লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখতেই এই অভিযান।