• আইপ্যাকের অফিসে ইডির হানার পর বিস্ফোরক মমতা, 'ন্যাস্টি-নটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী'
    ২৪ ঘন্টা | ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা আজই আসছেন কলকাতায়। আর তার মধ্যেই ভোট কুশলী সংস্থা আইপ্যাকের দুটি অফিসে হানা দিল ইডি। পাশাপাশি আইপ্যাকের প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতেও হানা দেয় ইডি। সেই খবর পেয়েই লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও পুলিস কমিশনার। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী চলে যান আইপ্যাকের অফিসে। দুই জায়গা থেকেই ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন। খানিকটা এরকমই ছবি দেখা গিয়েছিল রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের তত্পরতার সময়। 

    সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় বলেন, আমাদের পার্টির হার্ড ডিস্ক, ক্যান্ডিডেট লিস্ট, পার্টির স্ট্রাটেজির নথি সব নিয়ে নেওয়া হয়েছে। এটা কি ইডির কাজ? ন্যাস্টি হোম মিনিস্টার, নটি হোম মিনিস্টার।  উনি আমার পার্টির নথি নিয়ে চলে যাবেন! আমি যদি বিজেপির পার্টি অফিসে রেইড করি তাহলে কী হবে! এসআইআর করে প্রায় দেড় কোটি মানুষকে ডাকা হয়েছে। প্রতীক আমার লোক। এইসব হার্ডডিস্ক, ফাইল নিয়ে এলাম। আমাদের আইটি সেলের অফিসে হানা দিয়ে সমস্ত হার্ড ডিস্ক সংগ্রহ ও বাজেয়াপ্ত করার যে চেষ্টা চালানো হয়েছে,তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশলের অংশ বলেই মনে হচ্ছে। দেশ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তদন্তকারী সংস্থাগুলোর প্রধান কর্তব্য; কিন্তু তাঁরা তা পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। একদিকে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে, আর অন্যদিকে বেআইনিভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনটা হতে পারে আঁচ করতে পেরে আমি আগেই তথ্যে ঠাসা সমস্ত হার্ড ডিস্ক নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে ফেলেছিলাম। ওরা আমাদের আইটি অফিসেও রেইড করেছে। ওখানে আমি যাব। ওই কথ াবলার পর মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছে যান সল্ট লেকে।

    মমতার ওই পদক্ষেপ নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ধরনা দিয়েছিলেন সিবিআই অফিসে ফিরহাদ, মদন মিত্রদের গ্রেফতারের বিরুদ্ধে। মুখ্যমন্ত্রী এর আগে রাজীব কুমারের বাড়িতে যখন রেইড হয় তখনও মুখ্যমন্ত্রী ধরনা দিয়েছিলেন ধর্মতলায়। মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের কাজ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কাজে সরাসরি হস্তক্ষেপ। এবং তদন্তে বাধাদান। একজন মুখ্যমন্ত্রী শুধু রাজনৈতিক নেতা নেত্রী নন, প্রশাসনিক কর্ত্রী। এই কাজের নিন্দা জানাই। মুখ্যমন্ত্রী বিরুদ্ধেও ব্য়বস্থা নেওয়া উচিত বলে আমার মনে হয়েছে। আশা করি ইডি সেই ব্যবস্থা নেবেন। 

    উল্লেখ্য়, আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে প্রায় ৩ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তল্লাশি চালায় ইডি। প্রতীকের বাড়িতে কিছুক্ষণ থেকে বেরিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী ও সিপি। গোটা বাড়িটি মুড়ে ফেলা হয় বিশাল পুলিস বাহিনী দিয়ে। এনিয়ে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যখন পৌঁছে গিয়েছেন তখন বুঝতে হবে এতে মুখ্যমন্ত্রীর বড় চিন্তা রয়েছে। এই চিন্তা থেকেই রাজীব কুমারের বাড়িতে দৌড়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এর আগে তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীর বাড়িতে রেইড হয়েছে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী যাননি। কারউ উনি জানেন একা ফাঁসলে কালীঘাটও ফেঁসে যাবে। 

    ইডির রেইড নিয়ে তৃণমূলের তরফে এক্স হ্য়ান্ডেলে লেখা হয়, যা ঘটছে তা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অনৈতিক পথে বাংলা দখল করার এটি বিজেপির আরও একটি চেষ্টা। গণতান্ত্রিকভাবে লড়াই করতে না পেরে বিজেপি এখন ইডি-কে (ED) অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা জোর করে দলের নথিপত্র,অভ্যন্তরীণ কৌশল, প্রার্থী সংক্রান্ত তথ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজগুলো হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই অভিযান একটি বড় ষড়যন্ত্রের অংশ, যা স্বৈরাচারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে ইডির মাধ্যমে চালানো হচ্ছে। মাননীয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে,এই ষড়যন্ত্রের প্রতিটি পদে পদে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে এবং এটি কখনই সফল হতে দেওয়া হবে না।"

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)