প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং-এর উসকানিতেই হিংসা মনিপুরে? ভাইরাল অডিও ক্লিপ পরীক্ষার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
প্রতিদিন | ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী বিরেন সিংয়ের ইন্ধনেই কি মণিপুরে ভয়াবহ (Manipur Violence) আকার নিয়েছিল জাতিহিংসা! এক অডিও টেপকে কেন্দ্র করে এই জল্পনা চরম আকার নিতেই এবার পদক্ষেপ শীর্ষ আদালতের। বুধবার বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ জানিয়েছে, ৪৮ মিনিটের পুরো অডিও ক্লিপ ন্যাশনালন ফোরেন্সিক সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়য়ের কাছে পাঠানো হবে।
এর আগে অডিও ক্লিপের (Audio Clip) ছোট একটি অংশ তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। যদিও সেই রিপোর্টে বলা হয় যে ক্লিপটির তদন্ত করা সম্ভব নয় কারন ওই অডিও এডিট করা হয়ে থাকতে Sহতে পারে। ডিসেম্বর মাসে আদালত প্রশ্ন তোলে, কেন সম্পূর্ণ অডিও ক্লিপ ফরেন্সিক তদন্তের জন্য পাঠানো হয়নি। যদিও, আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ অন্য একটি ফরেন্সিক রিপোর্ট তুলে ধরে দাবি করেন, একটি অডিও ক্লিপ এডিট করা হয়নি।
আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, অভিযোগে যে ৪৮ মিনিটের লম্বা অডিও ক্লিপের কথা বলা হয়েছে এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং-এর গলার স্বরের স্যাম্পেল দু’টোই রয়েছে। জমা পরা সব রেকর্ডিং ফরেন্সিক তদন্তের জন্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফরেন্সিক বিশ্ববিদ্যালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দ্রুত এই তদন্তের কাজ শেষ করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য।
অভিযোগকারি কুকি সঙ্গঠনের তরফে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ জানিয়েছে এই বিষয়টি আদালতের সামনে অন্তত ১০ বার লিস্ট করা হয়ছে কিন্তু শুনানি হয়নি। মনিপুর সরকারের পক্ষের আইনজীবীর দাবি, গত শুনানির পরে সরকার পুরো রেকর্ডিং হাতে পেয়েছে।
এর আগে, কুকি সম্প্রদায়ের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ আদালতকে বলেন, বন্ধ কামরায় এক বৈঠকে রেকর্ড করা হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর কথোপকথন। যেখানে মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা গিয়েছে, মেতেই সম্প্রদায়ের কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। এবং রাজ্যের অস্ত্রাগার থেকে যারা অস্ত্র লুঠ করেছিল তাঁদের আশ্রয় দিতে হবে প্রশাসনকে। আদালতকে তিনি আরও বলেন, ওই অডিও ক্লিপে ফরেন্সিক টেস্ট করেছিল দিল্লিতে অবস্থিত দেশের একমাত্র স্বতন্ত্র ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাব, ‘ট্রুথ ল্যাবস’। তাঁদের তথ্য অনুযায়ী ওই অডিও ক্লিপে যার গলার শব্দ শোনা যাচ্ছে, তাঁর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বিরেন সিংয়ের গলার আওয়াজ ৯৩ শতাংশ মিলে যায়। অডিও টেপ নিয়ে কুকি সম্প্রদায়ের দাবি মেনে এরপর সুপ্রিম কোর্ট সরকারি ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (সিএফএসএল)কে নির্দেশ দেয়, টেপটি পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করে সেই রিপোর্ট আদালতকে জমা দিতে হবে।